ঢাকা | অক্টোবর ২১, ২০২৬ - ৭:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

রাঙ্গামাটিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে হাবীব আজম, সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

 

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম। এ সময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজার আয়োজন, সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

পরিদর্শন করা মণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে তবলছড়ি বাজারের শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির, রিজার্ভ বাজারের শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দির, তবলছড়ি স্বর্ণটিলার শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, বনরূপা কাঠালতলীর শ্রী শ্রী দুর্গা মাতৃমন্দির, আসামবস্তির শ্রী শ্রী শীতলা মন্দির ও বনরূপা হ্যাপির মোড়ের জগদ্ধাত্রী মাতৃমন্দিরসহ শহরের আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপ।

 

পরিদর্শনকালে হাবীব আজম বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতীক। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে মিলেমিশে উৎসব উদ্‌যাপন করতে হবে। রাঙ্গামাটির দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি ও শিক্ষক অরূপ কুমার মুৎসুদ্দী, পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, ছাত্রনেতা মো. অন্তর, দীপ দাশ ও সাকিবুল ইসলাম। এ ছাড়া দীপ্ত বড়ুয়া, মোহাম্মদ রবি হোসেন, মোহাম্মদ শাকিলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা টহল ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

সদর উপজেলায় বিজয়া দশমীর দিন কাপ্তাই হ্রদে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। এদিন শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে বিসর্জন দেওয়া হবে।

সম্পর্কিত