ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ - ৭:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শিক্ষা

মুছে ফেলা হলো ঢাবির ওসমান হাদি হলের নাম, ফিরছে আগের নাম

ঢাবি সংবাদদাতা।। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে পুনরায় পুরোনো নামফলক ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা নামফলকটি মুছে ফেলা হয়। সেখানে আবারও ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামটি লেখা হবে বলে জানা গেছে।

তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান। তিনি হলের নাম শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবর্তে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা ত্যাগী ব্যক্তির নামে নামকরণের দাবি জানিয়েছেন।

হল সংসদ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে হলের গেটে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি লিখে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে হলের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তনের জন্য প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি তৎকালীন উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি সর্বশেষ সিনেট সভায় উত্থাপিত হওয়ার পর অধিকতর বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়। তবে নাম পরিবর্তনের এই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে নামফলক মুছে ফেলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হল সংসদের ভিপি মো. মুসলিমুর রহমান বলেন, “নাম মুছে ফেলার বিষয়ে হল সংসদকে আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগেই হয়তো এটি করা হয়েছে, তবে প্রশাসন থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।”

হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে হল সংসদের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি আরও বলেন, “আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বহাল রাখার পক্ষে নই। নতুন নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি’ হোক কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে—তাতে আমাদের আপত্তি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে, সেটির দ্রুত ও যৌক্তিক সুরাহা হওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে কার সিদ্ধান্তে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলা হয়েছে, তা জানতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের (প্রভোস্ট) সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কিত