বিহারি নেতা নেয়াজ খানের মুক্তিসহ সাত দফা দাবিতে বিবিআরএ’র মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক।। রাজধানীর মিরপুরের বিহারি নেতা নেয়াজ আহমেদ খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তাঁরনিঃশর্ত মুক্তি এবং বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশী বিহারি পুনর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ)।
রোববার (২৭সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিবিআরএ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এইকর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২৯ আগস্ট মিরপুরের তালাব ক্যাম্পে একটি লাশ গোসল ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসামূলকভাবে জুলাই যোদ্ধা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী নেয়াজ আহমেদ খানের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে তাকেই উল্টো গ্রেফতার করে দুটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা চরম পক্ষপাতদুষ্ট ছিল উল্লেখ করে বক্তারা অবিলম্বে মামলা সংক্রান্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানান।
বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ী চক্র ক্যাম্পের জমি দখল এবং সাধারণ বাসিন্দাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। নেয়াজ আহমেদ খান ক্যাম্পবাসীর অধিকার ও পুনর্বাসন নিয়ে কথা বলায় তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। বক্তারা অনতিবিলম্বেকারাগারে বন্দি এই নেতার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে নিপিড়িত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
কর্মসূচি থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫টি মূল দাবি ও বিবিআরএ প্রদত্ত ৭ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানোহয়।
তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১। অবিলম্বে নেয়াজ আহমেদ খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি
২। তালাব ক্যাম্পের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী, ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা
৩। সাধারণ ক্যাম্পবাসীর পুনর্বাসন ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নিকট দাবিসম্বলিত পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারিদিয়ে বলেন, কোনো ধরনের প্রতিশোধ বা বিদ্বেষ নয়, বরং সত্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় তারা আরো কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন।











