কর্ণফুলীতে গরু চুরি, মাদক ও বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় উদ্বেগ
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
কর্ণফুলী উপজেলায় গরু চুরি, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম।
সভায় কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জুন মাসের অপরাধচিত্র উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে খুন, নারী নির্যাতন, অপহরণ, সড়ক দুর্ঘটনা, চুরি, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা জানান, রোগীদের দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গত ২০ জুন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে জরুরি রোগীরা এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে তদারকি আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম বলেন, কর্ণফুলীতে গরুর খামারের সংখ্যা বাড়লেও গরু চুরি খামারিদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় অনেক গবাদিপশুর কানে পরিচয় শনাক্তকারী ট্যাগ লাগানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও পশুকে ট্যাগিংয়ের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি প্রায় ১,৫০০ গরুকে বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভা থেকে গরু চুরি প্রতিরোধে নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বিশ্বজিত নাথ জানান, গত ২০ জুন উপজেলার জুলধা চৌধুরীপাড়া এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে একটি বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিতে ফায়ার সার্ভিস সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা জানান, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করা হলে সভা থেকে বিদ্যালয় এলাকায় টহল বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। উপজেলা গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী জানান, বড়উঠান ইউনিয়নে মামলা গ্রহণের হার বৃদ্ধি পেলেও কয়েকটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিরোধ আদালতের পরিবর্তে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ায় মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে আইন অনুযায়ী গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় এবং দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সভার সভাপতি ইউএনও মো. রিদুয়ানুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। পরে উপস্থিত সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর হক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তার ভুঁইয়া, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, কর্ণফুলী প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল আমিন মিন্টু, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।









