ঢাকা | জুলাই ২১, ২০২৬ - ৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

কাপ্তাইয়ে পাহাড়ি ঢলে কবরস্থানের সড়ক-কালভার্ট ভাঙনের মুখে, ঝুঁকিতে উপজেলা মডেল মসজিদ

  • আপডেট: Sunday, July 19, 2026 - 6:53 pm

 

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা সদরের উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসংলগ্ন কবরস্থানে যাওয়ার সড়ক এবং একটি কালভার্ট পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভাঙনের মুখে পড়েছে। ছড়ার পাড়ের প্রায় ৯ মিটার অংশ ধসে যাওয়ায় কবরস্থানে যাওয়ার একমাত্র সড়ক এবং পাশের উপজেলা মডেল মসজিদও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ছড়ার পাড়ের বড় একটি অংশ ধসে গেছে। ভাঙনের পরিধি ক্রমেই মডেল মসজিদের দিকে এগিয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রকৌশলীরা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। অতীতেও এ এলাকায় তীর সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি বলেও তারা জানান।

উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব হাফেজ মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং জুমার দিনে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এখানে আসেন। ভাঙনের কারণে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কবরস্থানে যাওয়ার একমাত্র কালভার্টটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। একই সঙ্গে মডেল মসজিদটিও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।”

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, “পাহাড়ি ঢলের কারণে কবরস্থানে যাওয়ার সড়ক ও কালভার্টে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

বরইছড়ি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. একরাম হোসেন বলেন, “অনতিবিলম্বে সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।”

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, “ভাঙনের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সড়ক ও কালভার্ট রক্ষায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে।”