ঢাকা | নভেম্বর ৬, ২০২৬ - ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

রাজস্থলীর শফিপুরে মানববন্ধন: অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৬ জুন) শফিপুর এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, হয়রানির অভিযোগ, সামাজিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় দুই ব্যক্তি মো. রিয়াজ উদ্দিন রানা ও আব্দুর রাজ্জাক (পিএসপি)-এর বিরুদ্ধে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি, কবরস্থান ও মসজিদকে কেন্দ্র করে বিরোধ উসকে দেওয়া এবং এলাকায় অস্থির পরিবেশ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

বক্তারা বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা প্রশাসন সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এম. মিজানুর রহমান (প্রিন্স) বলেন, “শফিপুর দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে পরিচিত। আমরা চাই এই পরিবেশ অটুট থাকুক। সাধারণ মানুষের জমি-সংক্রান্ত অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগগুলো প্রশাসন গুরুত্বসহকারে তদন্ত করুক। দোষী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কাউকে হেয় করা নয়। আমরা চাই মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে মো. আব্দুল জব্বার বলেন, “সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। কোনো পরিচয় ব্যবহার করে যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হয়, তবে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে অভিযোগের ক্ষেত্রেও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

এ সময় বক্তব্য দেন মো. আব্দুল কুদ্দুস গাজী, মো. তালিব হোসেন, মো. আওয়াল হোসেন, মো. জুলহাস সিকদার ও মো. মাসুদুর রহমান। বক্তারা শফিপুরে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক মো. রিয়াজ উদ্দিন রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কবরস্থানের গাছ বিক্রি এবং একটি মসজিদের নামে সরকারি-বেসরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে আমি সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকে আমার পরিবার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার বাড়িঘর ও জায়গা দখলের অভিযোগ রয়েছে এবং আমার ভাই ও ভাতিজাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। আমি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

স্থানীয়দের মতে, শফিপুরের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানের কার্যকর উপায়।

সম্পর্কিত