নতুন নিয়মে লাল কার্ড, দ্রুততম গোলে জিতল প্যারাগুয়ে বিদায় তুরস্কের
স্পোর্টস ডেস্ক।। এই বিশ্বকাপে দ্রুততম গোল। সেই সঙ্গেই ফিফার নতুন নিয়মে বিশ্বে প্রথম লাল কার্ড। এমন ঘটনাবহুল ম্যাচেই তুরস্ককে ১-০ হারিয়ে দশ জনে খেলে জিতল প্যারাগুয়ে। সেই সঙ্গেই গ্রুপের দু’টি ম্যাচই হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল তুরস্কের।
প্রথম ম্যাচে আমেরিকার কাছে ৪-১ হেরে ক্যালিফর্নিয়ার মাঠে শনিবার সকালে (ভারতীয় সময়) নতুন উদ্যমে শুরু করেছিল প্যারাগুয়ে। ম্যাচের শুরুতেই চলতি বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালার্জ়া। ৬৪ সেকেন্ডে গোল করে তিনি ভেঙে দেন তার কয়েক ঘণ্টা আগেই স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭১ সেকেন্ডে গোল করে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারির তৈরি রেকর্ড। ২৪ বছরের গালার্জ়া ম্যাচের পরে খুশিতে ভাসছিলেন।
তিনি জানান, এই দিনটা তাঁর জীবনের সেরা দিন। তাঁর কথায়, ‘‘এক জন কম হয়ে যাওয়ার পরেও আমরা আমাদের লড়াকু মানসিকতা দেখিয়ে গিয়েছি।’’
লাল কার্ড দেখে প্যারাগুয়ের এক জন কম হওয়াটাও এই ম্যাচে কার্যত ‘ঐতিহাসিক’ই হয়ে রইল। কারণ, ফিফার নতুন নিয়মে এই প্রথম কাউকে লাল কার্ড দেখানো হল। ওই নিয়মে বলা হয়েছে, ম্যাচে কোনও ঘটনা ঘিরে বচসা চলাকালীন যদি কোনও খেলোয়াড় হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকেন, তা হলে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হবে। কারণ, তিনি মুখ ঢেকে কুকথা বলতে পারেন বা গালাগালি দিতে পারেন।
খোদ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই নিয়মের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, কেউ যদি খারাপ কথা না বলে, তা হলে হাত দিয়ে মুখ ঢাকার দরকার কী? এই ম্যাচেও তুরস্কের মার্ট মুল্ডারের সঙ্গে বাক্যবিনিময়ের সময় প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমাইরন হাত দিয়ে মুখ ঢাকায় তাঁকে লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যেতে হয়। গোটা দ্বিতীয়ার্ধই প্যারাগুয়েকে ১০ জনে খেলতে হয়েছে।
প্যারাগুয়ের এক জন খেলোয়াড় কম থাকার পরেও গোল করতে ব্যর্থ হয় তুরস্ক। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচ মিলিয়ে তারা গোলে ৬২টি শট নিলেও একটিও গোল করতে পারেনি। ১৯৬৬-র পর বিশ্বকাপে এমন ‘ব্যর্থতার’ নজির নেই বলেও অনেকে দাবি করেছেন। এ বারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরে তুরস্কের কোচ ভিনসেনজ়ো মন্টেয়া বলেন, ‘‘আমি দুঃখিত। তবে আমি আমার খেলোয়াড়দের জন্য গর্বিত। শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত ওরা নিজেদের সবটুকু দিয়েছে। ফুটবল এমনই হয়।’’











