রাহুলকে হারিয়ে আজীবনের আক্ষেপ প্রিয়াঙ্কার
বিনোদন ডেস্ক।। বয়স হয়েছিল মোটে ৪২। শুটিং করতে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তালসারিতে। ২৯ মার্চ সেখানেই সমুদ্রের জলে ডুবে মৃত্যু। টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে হতবাক হয়েছিল দুই বাংলার শিল্পী ও দর্শক। তবে সবচেয়ে বেশি যিনি আহত হয়েছে, তিনি অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। রাহুলের জীবনসঙ্গী।
প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ছেলে সহজ ও রাহুলের পরিবারকে সামলে নিতে হচ্ছে। শক্ত মনে সেসবও করছেন। তবে একটি আক্ষেপ তাকে পুড়িয়ে মারছে। হয়তো সারাজীবন সে আক্ষেপ বয়ে বেড়াবেন।
প্রিয়াঙ্কা জানান, এই গরমের ছুটিতে রাহুলের সঙ্গে তার ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়া আর হলো না।
আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “একটা আক্ষেপ রয়ে যাবে আজীবন। সহজের (পুত্র) গরমের ছুটিতে বান্ধবগড়ে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছিলাম। রাহুলকে শেষ মেসেজে লিখেছিলাম, ‘ঠিক আছে, এখনও অনেক সময় রয়েছে, রিসার্চ করে নেওয়া যাবে।’ এটা মেনে নিতে পারছি না। আমরা ভাবি অনেকটা সময়, আসলে সময় নেই। সময় থাকতে থাকতে সবটা করে নেওয়া উচিত।”
রাহুলকে হারিয়ে এখন কেমন আছেন প্রিয়াঙ্কা ও সহজ? জবাবে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি ঠিক আছি। কাজের মধ্যেই রেখেছি নিজেকে। দারুণ কিছু মানুষ আমাকে ঘিরে রয়েছে। আর সহজও নিজের মতো করে গরমের ছুটি কাটাচ্ছে। ও গান নিয়ে ব্যস্ত, কম্পিউটার, গেমস—সব নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। বন্ধুরাও রয়েছে ওর সঙ্গে। আমি যতটা পারছি ওকে সময় দিচ্ছি। বাড়ির সবাই সময় করে দেখা করছে ওর সঙ্গে।
রাহুলের মায়ের কথাও আমি বলব না যে, খুব ভাল আছেন, সেটা বলার অধিকারও নেই। আমরা নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছি, কঠিন সত্যটা মেনে নেওয়ার। সময়ের সঙ্গে সবটা সহজ হয় না। আসলে নিজেকে বোঝাতে হয়, সেটাই করছি।’
এদিকে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে প্রিয়াঙ্কা অভিনীত নতুন সিরিজ ‘তারকাটা’। সৌমিক রায় চৌধুরীর এ সিরিজে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে আছেন বিক্রম চ্যাটার্জি, মেইয়াং চ্যাং, সত্যম ভট্টাচার্য প্রমুখ। এটি দেখা যাচ্ছে জি-ফাইভে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ দিয়ে জনপ্রিয়তা পান রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। এরপর দুজনের প্রেম, দু’বছর পরই সেরে নেন বিয়ে। মাঝে সম্পর্কে বৈরি সময় গিয়েছিল। আবার এক হয়েছিলেন সন্তান ও মনের টানে। কিন্তু রাহুলের প্রয়াণে ফের একাই হয়ে গেলেন প্রিয়াঙ্কা।











