ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ - ১:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

আন্তর্জাতিক

নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন

মুখে দাড়ি থাকায় ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

A quick brown fox jumps over the lazy dog. : image Caption

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল (৪৭) নামে এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমনকি মুখে দাড়ি থাকার কারণে প্রায়শই মুসলিম ফেরিওয়ালাদের জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হতো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৯ জুন পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকায় স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে গিয়ে হামলার শিকার হন আকবর মণ্ডল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার মণ্ডল দাবি করেন, স্থানীয় এলাকায় মুসলিম ফেরিওয়ালাদের প্রতি বৈরী মনোভাব ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দাড়ি থাকার কারণে অনেক সময় মুসলিম ফেরিওয়ালাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হতো।

 

দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া ছেড়ে বাবার পেশায় যুক্ত হওয়া জুলফিকার জানান, ঘটনার দিন সকালে আকবর মণ্ডল ভ্যানে করে বাসনপত্র বিক্রি করছিলেন। সুপুরডিহি গ্রামে পৌঁছানোর পর তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

তার দাবি, প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে বান্দোয়ান থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোন করে তাকে বাবার মৃত্যুর খবর জানান।

জুলফিকার বলেন, হাসপাতালে গিয়ে তিনি বাবার মরদেহ দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আকবর মণ্ডলের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পুরো শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুনিশোল গ্রামের মণ্ডলপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ বিভিন্ন গ্রামে ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

তার মতে, অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র ও শ্রমনির্ভর হওয়ায় জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেপ্তার করেছে। ১০ জুন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানান, অভিযুক্তের বাড়ির ভেতরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

তবে তিনি বলেন, হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত বিরোধ বা ঝগড়া থেকে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলেও তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।

পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি আরও জানান, তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সম্পর্কিত