ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ - ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

আন্তর্জাতিক

নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন

দোগাছী কুলনিয়ায় ১০ বছরের শিশু কলি হত্যা: মূল রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

A quick brown fox jumps over the lazy dog. : image Caption

 

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোস্তফা কামাল (৫৫) ও মো. ইয়াছিন আলী (২১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু কামরুন্নাহার কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মরদেহ ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বস্তার ভেতরে রাখা ইটসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে শিশু কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

 

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলী শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মোস্তফার দোকানে থাকা হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বস্তায় মরদেহ ঢুকিয়ে তার ঘরের খাটের নিচে একদিন রাখা হয়। পরদিন রাতে ওই বস্তাটি একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে রেখে দুটি ইটসহ বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ঝোপঝাড় ও লতাপাতার নিচে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়।

 

পুলিশ আরও জানায়, এলাকাবাসী মানববন্ধন করে প্রত্যেকের বাড়িতে তল্লাশির ঘোষণা দিলে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে আসামিরা ডোবা থেকে মরদেহ সরানোর চেষ্টা করে। তারা পানির নিচ থেকে বস্তাটি তুলে পাশের সেফটি ট্যাংকের কাছে নিয়ে যায়। এ সময় মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং কুকুরের ডাক শুনে ভয় পেয়ে বস্তাটি সেখানে রেখে তারা পালিয়ে যায়।

 

তদন্তকালে গ্রেপ্তার মোস্তফা কামালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ৫২ মিনিটের দিকে শিশু কলি তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানে যায়। ওই সময় মোস্তফা শিশুটির একাধিক ছবি নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে। পরে ছবিগুলো মুছে ফেলা হলেও তদন্তকারীরা সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।

 

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল আলামতসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

গ্রেপ্তার মোস্তফা কামাল পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল মতিন প্রামাণিকের ছেলে। অপর আসামি মো. ইয়াছিন আলী সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের মৃত মোহাব্বত আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে কুলনিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছিলেন।

 

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা করা হবে।

সম্পর্কিত