ঢাকা | এপ্রিল ৩, ২০২৬ - ১১:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফের নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু, ১১ মাস পর লাশ ফেরত দিলো ভারত

  • আপডেট: Friday, April 3, 2026 - 8:06 pm

তেঁতুলিয়া সংবাদদাতা।। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে ভারত থেকে আজিজুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সময় উভয় দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ গ্রামের মো. মোতুজ্জারের ছেলে।

পারিবারিক ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ মে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন তিনি। বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে শিলিগুড়ির একটি কারাগারে পাঠায়।

পরিবারের অভিযোগ, আটককালে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২২ মার্চ তাকে ভারতের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে তিনি মারা যান।

 

প্রায় ১১ মাস পরে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মরদেহ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। পরিবারের কাছে এ সময় মরদেহ আনার দেরির কারণ হিসেবে আইনগত জটিলতা ও আর্থিক সংকট উল্লেখ করা হয়েছে।

আজিজুর রহমানের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তার দুই মেয়ে ও এক মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে। বাড়ি ছাড়া তাদের বিশেষ কোনো সহায়-সম্বল নেই। মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা নেওয়া হয়। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সরকারি খরচে মরদেহ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়।

শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার মেয়ের জামাই মো. দুলাল হোসেন ও ভাতিজা মো. সোহেল রানার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, উভয় দেশের নিয়ম মেনে আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।