ঢাকা | এপ্রিল ৩, ২০২৬ - ৭:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম

জ্বালানি তেল সংকটে মোংলা বন্দরে পণ্য পরিবহন স্থবির, হতাশ ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট: Friday, April 3, 2026 - 4:38 pm

মোংলা প্রতিনিধি।। জ্বালানি তেল সংকটের কারণে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। যা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির অভাবে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ অলস বসে থাকায় মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে দীর্ঘ সূত্রীতা ও এক ধরণের অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ায় জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেড়ে যাচ্ছে। এতে জরিমানা হিসেবে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। সব মিলিয়ে আমদানিকৃত খাদ্য শস্য, সার ও শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল খালাস ও পরিবহনে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে শত শত খালি লাইটার নোঙ্গর করে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। একই অবস্থা খুলনা রুপসাসহ চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায়। সেখানেও রয়েছে শত শত খালি লাইটার। এমন পরিস্থিতিতে লাইটার সংকট দেখা দিয়েছে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত বানিজ্যক জাহাজগুলোতে। মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে কলকারখানাগুলোতে কাঁচামাল সংকটে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

এম,ভি আর-রশিদ-০১ নামক লাইটার জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল না পাওয়ায় তারা পণ্য বোঝাই করতে যেতে পারেনি। তাদের লাইটারটি এক সপ্তাহ খালি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হয়েছে।

খুলনার রুপসা এলাকায় অবস্থানরত সেভেন সার্কেল সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ মামুন বলেন, বন্দরে সিমেন্টের কাঁচামাল নিয়ে আসা তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইটার সংকটে নিদিষ্ট সময়ে আমদানী পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে প্রতিদিন ব্যণিজ্যিক জাহাজকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলার বিলম্ব মাশুল দিতে হচ্ছে। একই সাথে তাদের সিমেন্ট কারখানায় কাচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে লাইটার সংকটে কারখানার উৎপাদিত সিমেন্ট দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো যাচ্ছে না।
শেখ সিমেন্ট কারখানার এজিএম আজাদুল হক বলেন, লাইটারের জ্বালানি সংকটে বন্দরে অবস্থানরত ব্যণিজ্যিক জাহাজ থেকে ক্লিংকার তাদের কারখানায় নিতে পারছেন না। তাদের মালিকানা সিমেন্ট ও অটোরাইচ মিলে চরম কাচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছে।

এম,ভি মিমাতাজ লাইটারে মালিক মোঃ খোকন বলেন, তার মালিকানাধীন লাইটারে তেল সরবরাহের জন্য মোংলা বাজারে তেল ব্যবসায়ী এসকে এন্টারপ্রাইজকে বলা হয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে ডিপো থেকে তাদের ডিলারকে চাহিদা মতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তাই তারা আমাদেরকে তেল দিতে পারছেনা। একই রকম অবস্থা সব লাইটারগুলোতে। তিনি আরো বলেন, তেল না পেয়ে পণ্য বোঝাই করতে লাইটার পাঠাতে পারছেন না তারা।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিঃ এর মোংলাস্থ মেরিন ডিলার ও এজেন্ট মেসার্স নুরু এন্ড সন্স এর মালিক এইচ এম দুলাল বলেন, বর্তমান সরকার খাল খনন, নদী ড্রেজিং, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশের আমদানী-রপ্তানী বৃদ্ধিসহ নানামুখী কর্মকান্ড হাতে নিয়েছে। এর ফলে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমন বৃদ্ধি পাওয়ার আগের চেয়ে বেশি লাইটার জাহাজ জ্বালানি তেল নিতে মোংলায় আসছে। কিন্তু চাহিনা অনুয়ায়ী ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছেনা। তাই আমরা তেল দিতে পারছিনা। তিনি জানান, তারা তেল সরবরাহ করতে না পারায় উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য আহরণ বন্ধ হওয়ার পথে।

মোংলাস্থ মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর ম্যানেজার (অপারেশন) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ডিলার বা এজেন্টদের তেল সরবরাহ করতে। তবে যেহেতু যুদ্ধের একটি প্রভাব রয়েছে। সেই কারণে তেলের প্রাপ্যতা কম থাকায় সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সরবরাহ করা হচ্ছে।