ঢাকা | মার্চ ১৬, ২০২৬ - ২:৫৬ অপরাহ্ন

হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন, পুড়ে মরলো ১০ রোগী

  • আপডেট: Monday, March 16, 2026 - 12:08 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কটক শহরে অবস্থিত এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটের আইসিইউতে সোমবার (১৬ মার্চ) ভোরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ১১ জন হাসপাতাল কর্মী দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, রোগীদের জীবন বাঁচাতে গিয়েই এই কর্মীরা আহত হয়েছেন। সোমবার ভোররাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এই আগুনের সূত্রপাত হয়, যখন সেখানে আশঙ্কাজনক রোগীরা চিকিৎসাধীন ছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ওড়িশার অন্যতম বড় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মাহালিং হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সময় মোট ২৩ জন রোগীকে অন্য বিভাগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলাকালীন সাতজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে আরও তিনজন প্রাণ হারান। আহত কর্মীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বেদনাদায়ক ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ২৫ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক অবস্থায় আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে। হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন দুর্ঘটনা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত রোগীদের অন্যান্য আইসিইউ ও সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভবিষ্যতে এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে ওড়িশাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন বিচার বিভাগীয় তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি