ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ - ৩:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আন্তর্জাতিক

নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন

টিম কুকের বিদায়বেলায় আইফোনের চাহিদায় নতুন রেকর্ড

A quick brown fox jumps over the lazy dog. : image Caption

প্রযুক্তি ডেস্ক।। বিদায়ী প্রধান নির্বাহী টিম কুকের অধীনে আইফোনের আকাশচুম্বী চাহিদা ও রেকর্ড বিক্রির খবর দিয়েছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। চীনে অভাবনীয় সাফল্য ও নতুন ম্যাকবুক নিও’র জনপ্রিয়তা কোম্পানিটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

১ সেপ্টেম্বর থেকে জন টার্নাসের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার আগে এমন রেকর্ডকে অ্যাপলের জন্য এক বড় মাইলফলক বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে অ্যাপল বলেছে, বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের সার্বিক বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ১০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে চীনে বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

অ্যাপলের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেছেন, আইফোনের সাম্প্রতিক চাহিদা ছিল ‘অসাধারণ’। আইফোন ১৭ অ্যাপলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে জনপ্রিয় উন্মোচন’।

তবে আইফোনের এ অভাবনীয় সাফল্যের পরও অ্যাপলের অন্যান্য পণ্য, যেমন ম্যাক কম্পিউটার ও অ্যাপল ওয়াচের মতো পরা যায় এমন ডিভাইসের বিক্রি খুব একটা বাড়েনি, বরং আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে কোম্পানিটির পারফরম্যান্স নিয়ে এক আলোচনায় টিম কুক বিশ্লেষকদের বলেছেন, নতুন ‘ম্যাকবুক নিও’ এর চাহিদা কল্পনাতীতভাবে বাড়ছে।

তিনি আরও বলেছেন, এ প্রান্তিকে নতুন ম্যাক ক্রেতাদের সংখ্যায় রেকর্ড তৈরি করেছে, যার মূল কারণ নিও। কারণ ল্যাপটপটি অ্যাপলের অন্যান্য ম্যাকবুক ল্যাপটপের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমান পণ্যগুলোর বাইরেও কুক বলেছেন, অ্যাপলের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ এ বছরের শেষদিকে আপডেট এবং একে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’ এর একটি অংশ হিসেবে যোগ করা হবে।

“কোনো আলাদা ফিচার হিসেবে এআই নয়, বরং আমাদের ডিভাইসগুলোর এক গুরুত্বপূর্ণ ও সহজাত অংশ হবে এআই।”

এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যাপল ব্যবহারকারীর প্রাইভেসির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কুকের মতে, এ কারণেই অ্যাপলের প্ল্যাটফর্মগুলো এআই ব্যবহারের জন্য সেরা জায়গা।

এআই ফিচারের প্রসারের ক্ষেত্রে অ্যাপল নিজেদেরকে পুরো প্রযুক্তি শিল্প থেকে আলাদাভাবে তুলে ধরেছে।

নিজস্ব এআই মডেল তৈরির দৌড়ে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ না করে কোম্পানিটি ওপেনএআই ও গুগলের মতো কোম্পানি সঙ্গে পার্টনারশিপের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করেই অ্যাপলের ডিভাইসগুলোতে বিভিন্ন এআই ফিচার যোগ হচ্ছে।

অনেকেই এ প্রযুক্তিগত বিপ্লবে যোগ দিতে দেরি করার জন্য অ্যাপলের সমালোচনা করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে অ্যাপলের বড় সুবিধা রয়েছে, ভবিষ্যতে এআই নিয়ে যদি মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা পূরণ না হয় তবে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অ্যাপলের ক্ষেত্রে কম থাকবে।

কুক শিগগিরই অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর পদ ছেড়ে নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি অ্যাপলের দীর্ঘদিনের হার্ডওয়্যার নির্বাহী জন টার্নাসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হতে যাচ্ছেন টার্নাস।

কুক বলেছেন, “আমি জানি, আমাদের ব্যবহারকারীদের জন্য সেরা পণ্য পৌঁছে দিতে টার্নাস আমাদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবেন, যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।”

প্রথমবারের মতো আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেছেন টার্নাস।

তিনি বলেছেন, কুকের শেখানো আর্থিক ‘শৃঙ্খলা’ বা মিতব্যয়িতার ধারা তিনি ধরে রাখবেন। সেইসঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন কিছু পণ্য বাজারে আনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

“আমাদের সামনে এক চমৎকার কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। এখন কেবল এটুকু বলতে পারি, অ্যাপলে আমার কর্মজীবনে পণ্য ও সেবা তৈরির জন্য এটিই সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সময়।

সম্পর্কিত