যানজট নিরসনে ট্রাফিককে বিশেষভাবে দক্ষ ও আধুনিকভাবে গড়ে তুলতে হবে
ডেস্ক রিপোর্ট।। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদের নাগরিক মতবিনিময় সভায় রাজধানীর যানজট নিরসন, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ঈদুল আযহার আগে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ট্রাফিক বিভাগকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
আজ শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক গবেষণা পরিষদ-এর উদ্যোগে “পবিত্র ঈদুল আযহার আগে যানজট নিরসন এবং সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক মতবিনিময় সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি সেলিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়াম্যানের উপদেষ্টা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা সম্পাদক অশোক ধর, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
বক্তব্য রাখেন নজরুল গবেষক এইচ এম সিরাজ, সাংস্কৃতিক সংগঠক আর কে রিপন, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, মানবাধিকার সংগঠক এইচ এম মনিরুজ্জামান, শিক্ষক নেতা শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক আজগর হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রায় ৪ হাজার এএসআই (নিরস্ত্র) শূন্য পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে এবং বাকি ২ হাজার পদ সরাসরি নিয়োগের জন্য সার্কুলার প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে আরও ৪ হাজার এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু একই সময়ে কনস্টেবল থেকে এটিএসআই পদে উত্তীর্ণ ৫৫৯ জন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) ও টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) পদমর্যাদার সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বৈষম্য বিরাজ করছে।
তাদের দাবি, পুলিশের অন্যান্য শাখায় পদোন্নতির হার সন্তোষজনক হলেও ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই ও টিএসআই পদে পদোন্নতি অত্যন্ত সীমিত।
২০২৪-২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন ২ হাজার এএসআই (নিঃ) শূন্য পদ সৃষ্টি সাপেক্ষে কনস্টেবল ও নায়েকদের শতভাগ পদোন্নতি দেওয়া হলেও এটিএসআই পদে উত্তীর্ণ ৫৫৯ জন এবং টিএসআই পদে উত্তীর্ণ ৬০ জন সদস্যের কারোরই কার্যকর পদোন্নতি হয়নি।
বক্তারা জানান, তথ্যমতে এটিএসআই পদে মাত্র ৩০ জন এবং টিএসআই পদে মাত্র ৫ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন সিদ্ধান্তে এটিএসআই হিসেবে ৫৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হলেও সেটি সংশোধন করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫৫৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ঈদযাত্রার আগে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান যানবাহন ও নগরায়ণের বাস্তবতায় ট্রাফিক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সড়কে চাঁদাবাজি, বিশৃঙ্খলা ও যানজট নিরসনে প্রশিক্ষিত ট্রাফিক সদস্যদের যথাযথ পদোন্নতি ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।











