ঢাকা | মে ২১, ২০২৬ - ১০:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিক পুলিশের উপর হামলা, সাঁড়শি অভিযানে আটক ১২০

  • আপডেট: Thursday, May 21, 2026 - 9:30 am

নিজস্ব প্রতিবেদক।।  রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়া মৌজায় সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বস্তিবাসীর হামলায় গুরত্বর আহত হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট, সাংবাদিকসহ পুলিশ সদস্যরা।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে বাউনিয়াবাদ পলাশনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এরপর পরপরই মিরপুর বিভাগে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১২০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) এন, এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য গণমাধ্যমকে অবগত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালায়, হঠাৎ বস্তিবাসীরা ম্যাজিস্ট্রেট, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়। হামলায় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ আরো দুজনকে বেধড়ক পিটুনিসহ ধাওয়া করা হয়। এসময় তারা দৌড়ে বাঁচতে চাইলে বস্তিবাসী ইট- পাটকেল নিক্ষেপসহ ম্যাজিস্ট্রেটের জামার কলার ধরে মারধর শুরু করে। পরে কোন মতে দৌড় দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট তার গাড়িতে উঠে জীবন রক্ষা করে।

অন্যদিকে পুলিশের উপরও বস্তিবাসী হামলা চালায় এবং ধাওয়া করে। পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে নিজেদের রক্ষা করতে চাইলে বস্তিবাসীরা একটি বাস ভেঙ্গে ফেলে এবং রাস্তা অবরোধ করে  অন্যান্য যানবাহন ভাঙ্গার চেষ্টা করে। এতে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।

এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বস্তিবাসীর হামলায় এশিয়ান টিভির সংবাদকর্মী পা ভেঙে যায়। এছাড়া আরো দুইজন সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ সাংবাদিকের মোবাইল চেক করে মারামারি ভিডিও ডিলেট করে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

 

জানা যায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ৫৩৩ ফ্ল্যাট প্রকল্পের পশ্চিমে বাউনিয়া মৌজার অধিগ্রহণকৃত সরকারি জায়গা ও রাস্তার ধারে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান শুরু হয়।

পল্লবী থানাধীন সেকশন-০৯ ব্লক-ঘ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বেলা আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে স্থানীয় এমপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে চলে যান।

এরপর আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকা স্থানীয় বস্তিবাসীদের একটি অংশ উচ্ছেদ অভিযানে নিয়োজিত পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ম্যাজিস্ট্রেট ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

এ সময় দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জন্য রিকুইজিশন করা চারটি বাসের সামনের ও পাশের গ্লাস ভাঙচুর করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ কৌশলগত কারণে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিজেদের পরিবহনকারী বাসের দিকে সরে যায়। এসময় হামলাকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলায় জড়িত ৫ জনকে আটক করে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহায়তায় পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) এন, এম নাসিরুদ্দিন।

অন্যদিকে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক নির্মূল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে ডিএমপির মিরপুর বিভাগ বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ১২০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

মিরপুর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারদের মধ্যে মিরপুর থানা, এলাকায় ২৪ জন, পল্লবী থানা ৩৬ জন, কাফরুল থানা ১৪ জন, শাহআলী থানা ১১ জন, দারুস সালাম থানা ১৪ জন, ভাষানটেক থানা ১০ জন এবং রূপনগর থানা ১১ জন রয়েছেন।

গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।