ঢাকা | জুন ১৪, ২০২৬ - ২:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বিশ্বকাপে সুইৎজারল্যান্ড-কাতার বড় বিতর্ক! ‘অফসাইড’ থেকেও পেনাল্টি!

  • আপডেট: Sunday, June 14, 2026 - 1:19 pm

স্পোর্টস ডেস্ক।। সুইৎজারল্যান্ড- কাতার ম্যাচে পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন তারকা ও ফুটবল পণ্ডিতরা। অবশেষে সাফাই দিল ফিফা।

 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে মাত্র ২ দিন। আর তারমধ্যেই এক বড় বিতর্কের সম্মুখীন ফিফা। প্রযুক্তিগত ও রেফারিং বিতর্কের সম্মুখীন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাষ ঘটনার সুূত্রপাত গ্রুপ ‘বি’-র সুইৎজারল্যান্ড ও কাতার ম্যাচে। হাইভোল্টেজ ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে একটি বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন তারকা ও ফুটবল পণ্ডিতরা।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সুইৎজারল্যান্ডের মিডফিল্ডার রেমো ফ্রয়লার কাতারের বক্সে ফাউলের শিকার হলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ফাউল হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ফ্রয়লার স্পষ্ট অফসাইড পজিশনে ছিলেন। অথচ ভিএআর পরীক্ষার সময় সাধারণত দেখানো ‘সেমি-অটোমেটেড অফসাইড’ গ্রাফিক্সটি সম্প্রচারে না দেখিয়েই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়, যা থেকে ব্রেল এম্বোলো গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন।

টেলিভিশন সম্প্রচারে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ বা গ্রাফিক্স না দেখানোয় ম্যাচ চলাকালীনই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা গ্যারি নেভিল। ফিফার এই গোপনীয়তাকে ‘একনায়কতন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কোটি কোটি দর্শকের সামনে অফসাইডের প্রমাণ না দেখিয়ে নিজেদের অফিসে সিদ্ধান্ত গোপন রাখা একেবারেই হাস্যকর। আর্সেনালের প্রাক্তন স্ট্রাইকার ইয়ান রাইটও এটিকে একটি বড় ‘কেলেঙ্কারি’ বলে উল্লেখ করেন এবং প্রযুক্তির এমন ব্যবহার নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

সমালোচনা ও বিতর্ক যখন আন্তর্জাতিক স্তরে রূপ নেয়, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি দাবি করেছে, ম্যাচ চলাকালীন একটি সাময়িক কারিগরি বিভ্রাটের কারণে অনসাইড অ্যানিমেশন গ্রাফিক্সটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে এই বিভ্রাটের কারণে ভিএআর-এর মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি এবং রেফারিদের লাইন পরীক্ষার মানদণ্ডে ফ্রয়লার অফসাইড ছিলেন না।

ফিফার এই প্রযুক্তিগত যুক্তি হয়তো গ্রাফিক্স না থাকার কারণটি পরিষ্কার করেছে, কিন্তু মাঠের বিতর্ককে তা ধামাচাপা দিতে পারেনি। টিভি রিপ্লেতে ফ্রয়লারকে স্পষ্ট অফসাইড লাইনে দেখার পর ফুটবলপ্রেমীরা এই ব্যাখ্যা সহজে মেনে নিতে পারছেন না। এই চরম রেফারিং বিতর্কের ছায়ায় ম্যাচের বাকি অংশের রোমাঞ্চ ঢাকা পড়ে গেলেও, শেষ মুহূর্তে নাটকীয় এক গোল শোধ করে সুইজারল্যান্ডের হাত থেকে ১-১ ব্যবধানের মূল্যবান এক ড্র ছিনিয়ে নেয় কাতার।