ঢাকা | জুন ৩, ২০২৬ - ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট: Wednesday, June 3, 2026 - 10:31 am

ডেস্ক রিপোর্ট।। ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রথম বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ এসেছিল প্রতিবেশী ভারত থেকে। চীনও তাদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু দুটি দেশের কোনোটিতেই যাচ্ছেন না। সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন তারেক রহমান।

২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুর যেতে পারেন। এ জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সরকার গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে চিঠি দিয়েছে। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ২২ জুন দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি আয়োজনের বিষয়ে কথা চলছে।

সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। সে কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এই সফরের আলোচ্যসূচি এবং বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো ঠিক হয়নি। ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দিকে এগুলো চূড়ান্ত হতে পারে।

সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সরকার। সে কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কূটনীতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের গন্তব্য শুধু প্রটোকলের বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারেরও একটি প্রতীকী বার্তা। সেই বিবেচনায় ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এরপর আলোচনায় ছিল, প্রথম সফরে ওমরাহ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরব যাবেন কি না? অতীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীদের সৌদি আরবে প্রথম যাওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ওমরাহ পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সৌদি সফরের পরিকল্পনা আর এগোয়নি।

তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ভুটানের মতো সার্কভুক্ত দেশ দিয়ে শুরু করা যায় কি না, সে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল সরকারের উচ্চপর্যায়ে।

১ জুন কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে ২১ ও ২২ জুন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।

এরপর গত এপ্রিল থেকে চীন আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল তারেক রহমানকে বেইজিং সফরে নিতে। গত ৬ মে বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের অন্যতম আলোচ্যসূচি ছিল তারেক রহমানের সফর। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জুনের শেষ সপ্তাহে বেইজিং নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। গত ২৩ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠিও আসে ঢাকায়।

চীনের দূতাবাস থেকে ২৩ থেকে ২৬ জুন সফরের চিঠি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরটি চীনে নাকি অন্য কোনো দেশে হবে, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়। কিন্তু চীন বা ভারত—এ দুই দেশের পরিবর্তে তৃতীয় দেশ হিসেবে তখন মালয়েশিয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কারণ, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরপরই তারেক রহমানকে ফোনে শুভেচ্ছা জানানোর সময় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

এ প্রেক্ষাপটে এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও জনপরিসরে সমালোচনা এড়াতে সরকার মালয়েশিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়।

ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঈদের ছুটির ঠিক আগে গত ২৪ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। ১ জুন কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে ২১ ও ২২ জুন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।

আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও আসন্ন সফরে অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের একাধিক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তত ১১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন মালয়েশিয়ায়। দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দ্বিতীয়। দেশটিতে এখন চীনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার।

সামগ্রিকভাবে মালয়েশিয়া শুধু শ্রমবাজার নয়, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশিল্পে নতুন অংশীদার খোঁজার মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব পেতে পারে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে।