ঢাকা | এপ্রিল ১৭, ২০২৬ - ২:২১ অপরাহ্ন

দীঘিনালায় মাদ্রাসা ছাত্র অপহরণ

  • আপডেট: Wednesday, April 15, 2026 - 7:47 pm

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি।।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকায় এক মাদ্রাসা ছাত্রকে অপহরণের পর মুক্তিপণের মাধ্যমে উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি, ঘটনাটি তদন্তে ইতোমধ্যে দুটি টিম কাজ করছে।
অপহৃত ছাত্র মাহমুদুর রহমান রাফি (১২) মেরুং এলাকার নুরে মদিনা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সে দক্ষিণ মিলনপুর এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মাদ্রাসা থেকে মেরুং বাজারে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে রাফিকে অপহরণ করে রাঙামাটির লংগদু এলাকায় নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা দুটি মোবাইল নম্বর (০১৯৪৩০২৮৪৮১ ও ০১৮০৫৬৫৩১২৮) থেকে ফোন করে তার পরিবারের কাছে ৫১ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অপহরণকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ৫১ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হন রাফির বাবা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে মেরুং বাজার এলাকায় রাফিকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। পরে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবার।
এদিকে, অপহরণের ঘটনায় আইনগত সহায়তা পেতে মঙ্গলবার গভীর রাতে রাফির বাবা থানায় গেলে দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার জিডি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন পরিবার। তাদের দাবি, ওসি উপস্থিত নেই জানিয়ে ডিউটি অফিসার জিডি না নিয়ে সকালে আসতে বলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, “থানায় ২৪ ঘণ্টাই জিডি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে আমরা বাধ্য হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে সন্তানকে ফিরিয়ে এনেছি।”
এ বিষয়ে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, “রাত ২টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় আসে। ঘটনার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাদের সকালে থানায় আসার পরামর্শ দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবার সকালে থানায় আসলে ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের দুটি টিম ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।”