ঢাকা | জুন ২৩, ২০২৬ - ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

ছিনতাই-চাঁদাবাজি মামলায় ছাত্রদল নেতা কারাগারে

  • আপডেট: Monday, June 22, 2026 - 10:00 pm

মো. রিয়াজ, বাউফল।। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজি মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন করিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ বাউফল পৌর শহরের বাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ফল ব্যবসায়ী আল-আমিনের দোকানে হামলা, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আল-আমিনের বাবা ফজলুল হক মৃধা বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদসহ সাত জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতি সাধন এবং নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করে। ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর বাউফল থানায় দায়ের করা মামলায় মোট সাতজনকে আসামি করা হয়। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদকে।

দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ফজলুল হক মৃধা অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি তার ভাই ও সহযোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় অভিযুক্তরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়, কয়েকজনকে মারধর করে এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মামলার মেডিকেল প্রতিবেদনে আহত ব্যক্তির জখমকে সাধারণ ধরনের উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আদালত চাইলে আসামিকে জামিন দিতে পারতেন। এছাড়া আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা এবং ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান বলেন, ‘মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আহতদের মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তসলিম তালুকদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। আমরা তার মুক্তি দাবি করছি।