ঢাকা | জুলাই ১৪, ২০২৬ - ৭:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কাপ্তাইয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৪১ বিজিবির মেডিক্যাল ক্যাম্প, ২৪৩ জন পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

  • আপডেট: Tuesday, July 14, 2026 - 6:16 pm

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)। এ সময় স্থানীয় দুস্থ, হতদরিদ্র ও অসহায় ২৪৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের কুকিমারাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

৪১ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এ বিশেষ চিকিৎসা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। ব্যাটালিয়নের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. আশরাফুল ইসলাম, এএমসি-এর নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিক্যাল টিম দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সবাইকে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিজিবি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বিজিবি ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ওয়াগ্গাছড়া জোনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খাদ্য সহায়তা ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।