উরুগুয়েকে আটকে স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত কেপ ভার্দের
স্পোর্টস ডেস্ক।। বিশ্বকাপ অভিষেকেই যেন রূপকথা লিখতে এসেছে তারা। প্রথম ম্যাচে এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে আটকে দেওয়া যে কোনও আচমকা হয়ে যাওয়া ঘটনা ছিল না, তা দ্বিতীয় ম্যাচেও বুঝিয়ে দেল আফ্রিকার এক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। সোমবার ভোরে (ভারতীয় সময়) দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে পিছিয়ে পড়েও ২-২ ড্র করে ভোজ়িনারা বুঝিয়ে দিলেন, এই বিশ্বকাপে আরও অনেক চমক দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁদের।
ভোজ়িনার নাম গোটা ফুটবলবিশ্ব জেনেছিল স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচেই। বারংবার কেপ ভার্দের গোলে আক্রমণ শানালেও ভোজ়িনার দুর্ভেদ্য দস্তানা ভেদ করতে পারেননি লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামসরা। সেই ভোজ়িনা, যাঁর মা ভিসা করার অর্থের সঙ্কুলান না করতে পারায় ছেলের খেলা দেখতে আসতে পারেননি। স্পেন ম্যাচের পরে সেই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তেই ভোজ়িনার মাকে আমেরিকা আনার ব্যবস্থা হয়। মায়ামিতে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ছেলের খেলা দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন ভোজ়িনার মা।
গ্যালারিতে সশরীরে না থেকেও কেপ ভার্দের পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার সকলেই সাক্ষী থাকতে চেয়েছিলেন বিশ্বকাপে প্রথম বার এসে তাঁদের দেশের স্বপ্নের দৌড়ের। দেশবাসীকে হতাশ করেননি কেপ ভার্দের খেলোয়াড়েরা। ২১ মিনিটেই ইতিহাস গড়ে কেপ ভার্দের হয়ে ফ্রি-কিক থেকে প্রথম গোল করেন মিডফিল্ডার কেভিন পিনা। রাশিয়ান লিগে খেলা পিনা ২৫ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিকে যে গোল করে ফেলবেন, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। কিন্তু দর্শকদের চমকে দিয়ে তাঁর দুরন্ত শট উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফের্নান্দো মুসলেরাকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক গোলের সাক্ষী ছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্টি ইনফান্তিনোও।
৪৪ মিনিটে ম্যাক্সি আরাউজোর গোলে সমতা ফেরায় উরুগুয়ে। সেই আরাউজোর ক্রস থেকেই প্রথমার্ধের অতিরিক্তি সময়ে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন অগাস্টিন ক্যানোব্বিও। তবে হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তারা। ৬১ মিনিটে আসে সেই সুযোগ। উরুগুয়ে রক্ষণের মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে কার্যত ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ভুল করেননি ভারেলা। সেই সঙ্গেই পিছিয়ে থেকেও কেপ ভার্দেকে তিনি অপরাজিত রাখেন। পরপর দু’ম্যাচ মিলিয়ে দু’পয়েন্ট পেয়ে পরের রাউন্টে ওঠার আসা যেমন জিইয়ে রাখল কেপ ভার্দে, তেমনই বিশ্বকাপ অভিষেকেই এক নজির তৈরি করল।
উরুগুয়ে-কেপ ভার্দে ম্যাচে তৈরি হল আরও একটি নজির। বিশ্বকাপে এই প্রথম বার গোলের নীচে রইলেন দুই এমন গোলরক্ষক, যাঁদের দু’জনেরই বয়স চল্লিশের বেশি। উরুগুয়ের গোলরক্ষক মুসলেরায় গত ১৬ জুন চল্লিশে পা দিয়েছেন। আর কেপ ভার্দের ভোজ়িনাকে নিয়ে তো স্পেন ম্যাচের পর থেকেই চর্চা চলছে ফুটবলবিশ্বে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিরুদ্ধেও ভোজ়িনারা কোনও ইতিহাস গড়েন কি না সেটাই দেখার।











