ঢাকা | মে ৬, ২০২৬ - ৯:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাতারাতি তালাবদ্ধ ইসলামী ব্যাংকের মাইনীমুখ এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা

  • আপডেট: Wednesday, May 6, 2026 - 5:57 pm

লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ বাজারে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শাখাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাসেল এন্টারপ্রাইজ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটি মাইনীমুখ ও লংগদুতে দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা পরিচালনা করত। তবে গত ৪ মে হঠাৎ করেই মাইনীমুখ শাখায় তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গা-ঢাকা দেন।

পরদিন সকালে ব্যাংক বন্ধ দেখতে পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। পরে শাখার এজেন্ট রাসেল ও ম্যানেজার আমির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অভিযোগ, এজেন্ট রাসেল ও ম্যানেজার আমির হোসেন পরিকল্পিতভাবে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পাহাড়ি জনপদের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। নিজেদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের কোনো হদিস না পেয়ে অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিনই অসংখ্য গ্রাহক ব্যাংক শাখার সামনে ভিড় জমিয়ে নিজেদের জমাকৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। তারা প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক রাঙামাটি শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা বন্ধ ও এজেন্ট নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে ব্যাংকের একটি তদন্ত টিম বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, যেসব গ্রাহকের টাকা নিয়মিতভাবে ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে, তারা তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে যাদের টাকা জমার রসিদ দেওয়া হলেও ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়নি, তারা লিখিত আবেদন করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের রেকর্ড অনুযায়ী শাখাটিতে বৈধভাবে প্রায় ৭ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য রয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে এজেন্টের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সে বিষয়ে ব্যাংকের দায়ভার নেই বলেও জানান তিনি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।