ঢাকা | জুন ৬, ২০২৬ - ৯:৫৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পুশইন বন্ধে কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান সা.সু.প’র

  • আপডেট: Saturday, June 6, 2026 - 6:40 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশইনের একাধিক প্রচেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ (সা.সু.প)। সংগঠনটি অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধে সরকারের প্রতি কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযায বলেন, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের ঘাসুড়িয়া এলাকায় পাঁচজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। একই দিনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্ত এবং পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তেও পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অন্তত আটটি পৃথক স্থানে পুশইনের চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ৩ জন, নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৭ জন, তিস্তা অঞ্চলের বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে ২১ জন এবং লালমনিরহাটের দিঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তে মোট ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া নীলফামারী-পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জনকে কাঁটাতারের বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে এবং নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্ত এলাকায় ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যক্তিকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মো. মোস্তফা আল ইহযায অভিযোগ করে বলেন, সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, নাগরিকদের পরিচয় যাচাই ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে ‘পুশইন’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সীমান্ত পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তসংক্রান্ত এ ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সীমান্তবর্তী জনগণের উদ্দেশে মো. মোস্তফা আল ইহযায বলেন, পুশইন, অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্তসংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে। কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম বা জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।