ঢাকা | এপ্রিল ২৩, ২০২৬ - ৪:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

পার্বত্য অঞ্চলে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ বিষয়ে বান্দরবানে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

  • আপডেট: Thursday, April 23, 2026 - 11:23 am

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন উন্নয়ন ও জলাধার (ওয়াটারশেড) ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক প্রকল্পের (CRLIWM-CHT) পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ বিষয়ে বান্দরবানে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার বালাঘাটা এলাকার সদর মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বাস্তবায়নে এবং ইকিউএমএস কনসাল্টিং লিমিটেড (EQMS)-এর উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম। এছাড়া বান্দরবান এলজিইডির সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার রাফায়েল ত্রিপুরা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইকিউএমএস কনসাল্টিং লিমিটেডের সোশ্যাল সেফগার্ড এক্সপার্ট মেহেদি হাসান এবং এনভায়রনমেন্টাল এক্সপার্ট শেখ আবিদ মো. সাদ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপস্থাপনা করেন।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নকালে সম্ভাব্য পরিবেশগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়ন এবং জলাধার ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে এ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং স্থানীয় জনগণের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, কাঁচা ও এইচবিবি সড়ককে বিটুমিনাস সড়কে উন্নীতকরণ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি অবকাঠামো উন্নয়ন, ওয়াটারশেড ব্যবস্থাপনা, কৃষি উন্নয়ন, বাজার সংযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে জনমত যাচাই সভাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ সহজেই তাদের মতামত ও অভিযোগ জানাতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবিকা উন্নয়ন, বাজার ও সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।