নজরুলের সাম্য ও বিদ্রোহী চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক: পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার
নিজস্ব প্রতিনিধি।।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেছে পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার। মঙ্গলবার (২৬ মে) পাঠানো এক বিবৃতিতে পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মো. হাবীব আজম বলেন, নজরুল কেবল বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ স্রষ্টাই নন, তিনি অন্যায়-অবিচার, শোষণ, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বাঙালির চিরন্তন প্রেরণার নাম।
বিবৃতিতে বলা হয়, নজরুল তাঁর লেখনী, গান ও সংগ্রামী চেতনার মাধ্যমে যুগে যুগে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। “বল বীর- বল উন্নত মম শির!”, “কারার ঐ লৌহকপাট” কিংবা “চল চল চল” শুধু কবিতা বা গান নয়, বরং প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে বাঙালির সাহসের ভাষা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও নজরুলের দ্রোহী চেতনা নতুন প্রজন্মকে সাহস জুগিয়েছে। স্বৈরাচারী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামা ছাত্র-জনতার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে তাঁর অগ্নিঝরা পঙ্ক্তিমালা। যখন শাসকের রক্তচক্ষু মানুষকে ভয় দেখাতে চেয়েছে, তখন নজরুল শিখিয়েছেন মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে।
পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার মনে করে, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক বৈষম্য, মতপ্রকাশের সংকট এবং মানবিক অবক্ষয়ের সময়ে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। “মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান” দর্শন আজও জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির ভিত্তি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
মো. হাবীব আজম বলেন, তরুণ সমাজের সাহস, মানবিকতা, প্রতিবাদী চেতনা ও আত্মমর্যাদা গঠনে নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের কোনো বিকল্প নেই। যতদিন অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্য থাকবে, ততদিন নজরুল প্রাসঙ্গিক থাকবেন প্রতিটি প্রতিবাদে, প্রতিটি মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় এবং প্রতিটি ন্যায়সংগ্রামে।
বিবৃতিতে জাতীয় কবির আত্মার মাগফিরাত ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্ম নজরুলের মানবিক, সাম্যবাদী ও বিদ্রোহী চেতনাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।











