ঢাকা | জুলাই ১২, ২০২৬ - ৯:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

৬ মাসের চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনে ফিরলো সেই বাঘিনী

  • আপডেট: Sunday, July 12, 2026 - 8:13 pm

মোংলা প্রতিনিধি।। চোরা শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হয়েছিল সুন্দরবনের একটি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনী। প্রায় ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে ওঠার পর অবশেষে তাকে আবারও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার প্রাকৃতিক আবাস সুন্দরবনে।

আজ রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়।

এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, “বাঘ বনের প্রাণী, তাকে বনেই মানায়। ছয় মাস আগে গুরুতর আহত হওয়া বাঘিনীটিকে বন বিভাগের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা সফলভাবে সুস্থ করে তুলেছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সে আবার স্বাভাবিকভাবে শিকার করতে সক্ষম। তাই তাকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে বাঘিনীটির পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বিশেষজ্ঞদের সুপারিশেই তাকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খালের অদূরে হরিণ শিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে প্রায় ৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৯০ কেজি ওজনের বাঘিনীটি আটকা পড়ে। পরদিন ৪ জানুয়ারি মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলা হয়।

এসময় প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল এবং বাঘিনীটির চিকিৎসায় গঠিত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দলের প্রধান ভেটেরিনারি সার্জন ড. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, অবমুক্তির পর বাঘিনীটির নিরাপত্তা ও চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বনের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রাথমিকভাবে ২০টি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী এক বছর তার চলাচল, আচরণ ও শিকার সক্ষমতার ওপর নজরদারির জন্য বন বিভাগের চারটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ দল দায়িত্ব পালন করবে।