ঢাকা | জুন ৬, ২০২৬ - ৭:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কবরস্থান দখল করে বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ

  • আপডেট: Saturday, June 6, 2026 - 4:32 pm

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ।। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পারিবারিক কবরস্থান ও বসতভিটা দখল করে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই নেতার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এক নেতার সঙ্গে আঁতাত করে এই ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত আলী খান বাবুল এই অভিযোগ তুলেছেন।

 

অভিযুক্তরা হলেন- অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ এবং অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সজু মিয়া।

 

সাখাওয়াত আলী খান বাবুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি অষ্টগ্রামের মসজিদ জাম গ্রামের সন্তান এবং ছাত্রদলের সাবেক উপজেলা সভাপতি। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা ও মামলার শিকার হয়ে ২০১০ সালে আমি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমাতে বাধ্য হই। কিন্তু আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চুর প্রত্যক্ষ সহায়তায় আমার ৯.৫ শতাংশ পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সজু মিয়া।’

 

তিনি জানান, ২০০৯ সালে তার বড় চাচার কাছ থেকে দুটি টিনশেড বাড়িসহ এই সম্পত্তি তিনি ২০ লাখ টাকায় রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ক্রয় করেছিলেন।

ভুক্তভোগী এই সাবেক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে তিনি জমি উদ্ধারের চেষ্টা চালান। জায়গাটি ফিরে পেতে তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও শুধু আশ্বাস আর সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছুই পাননি।

 

বাবুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর ঠিক কয়েকদিন আগে, আমার বাড়ির সামনের অংশে থাকা পারিবারিক কবরস্থানটি টার্গেট করা হয়। যেখানে আমার আপন চাচির কবর রয়েছে, সেই পবিত্র স্থানটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের উপস্থিতিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে একটি আধাপাকা টিনশেড ভবন তুলে ‘বিএনপি কার্যালয়’র সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি ও কবরস্থান ফিরে পাওয়ার জন্য বসার প্রস্তাব দিলে অভিযুক্ত সজু মিয়া ও সৈয়দ সাঈদ আহমেদ তাকে সমাজচ্যুত করার ও প্রাণনাশের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করছেন। স্থানীয়ভাবে কোনো বিচার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে তিনি গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছেন।

 

তিনি বলেন, কবরস্থান দখল করে দলীয় কার্যালয় বানানোর মতো জঘন্য অপকর্মের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কতিপয় সুবিধাবাদী নেতার এই ভূমিলিপ্সার দায় পুরো দল নিতে পারে না।

 

তিনি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘কারও জায়গা দখল করে অফিস করা হয়নি। অফিস করা হয়েছে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। এতদিন অভিযোগ না করে এখন কেন এই অভিযোগ করা হচ্ছে? জায়গার সব কাগজপত্র আমাদের হাতে রয়েছে। অভিযোগকারী সাখাওয়াত আলী খান বাবুল এক সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন, এখন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে ও সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সজুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হচ্ছে।’