সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই
মিরসরাই প্রতিনিধি।।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মেজ ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। প্রায় এক মাস ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। মিরসরাই আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন।
তিনি বাংলাদেশের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে এম এ আজিজের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
১৯৭০ সালে প্রথমবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালেও তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তার বাবা এস রহমান ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স করপোরেশন’ এবং কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘হোটেল সায়মন’ প্রতিষ্ঠা করেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘গ্যাসমিন লিমিটেড’ নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়া তিনি ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং’ হোটেলের চেয়ারম্যান ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় হামলায় তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালে শেখ হাসিনার মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত হন। ১৯৯২ সালে ফটিকছড়িতে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী আয়েশা সুলতানার সঙ্গে সংসার জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।









