ঢাকা | জুন ১৭, ২০২৬ - ৫:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজস্থলীর কুইক্যাছড়ি পাড়ায় তীব্র পানি সংকট, বাড়ছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ

  • আপডেট: Wednesday, June 17, 2026 - 10:52 am

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি।।

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম খিয়াং অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ঝর্ণা ও ছড়ার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির জন্য চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে উপজেলার ১ নম্বর ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বড় কুইক্যাছড়ি পাড়া, ছোট কুইক্যা, ধনুছড়ি ও শীলছড়ি এলাকার মানুষ বর্তমানে তীব্র পানিসংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এসব এলাকার মানুষের পানির প্রধান উৎস ঝিরি-ঝর্ণা, ছড়া ও কূপ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং বন উজাড়ের কারণে প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। ফলে সুপেয় পানি তো দূরের কথা, দৈনন্দিন ব্যবহার্য পানিও সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় নারীদের অভিযোগ, প্রতিদিন ভোর কিংবা গভীর রাতে দলবেঁধে কয়েক কিলোমিটার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি থেকে অল্প অল্প করে জমা হওয়া পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পাথরের ফাঁক দিয়ে বের হওয়া সামান্য পানি সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে সেই পানি ছেঁকে রান্না ও খাবারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

কুইক্যাছড়ি পাড়ার গীর্জার পুরোহিত চিংচাউ বলেন, “দিন দিন পানি সংকট বাড়ছে। বন উজাড়, পাহাড় কাটা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে পাহাড়ের পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্যও এখন পানি কিনতে হচ্ছে।”

ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চিংলাউ খিয়াং বলেন, “এখন গোসল তো দূরের কথা, খাবার পানিরও সংকট। সন্ধ্যার পর পানি সংগ্রহের জন্য লাইন পড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের স্থাপন করা কয়েকটি নলকূপও বর্তমানে অকেজো হয়ে আছে।”

এদিকে সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে পানি সংকটের বাস্তব চিত্র দেখার কথা জানিয়ে রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকল্প অনুমোদন হলে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংকট কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংসের কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে পানির সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।