ঢাকা | জুন ১৭, ২০২৬ - ৪:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ব্যক্তিগত জীবনে বড় সমস্যায় ভুগছে মেসি, হ্যাটট্রিক ম্যাচেও চোখে পানি

  • আপডেট: Wednesday, June 17, 2026 - 11:34 am

স্পোর্টস ডেস্ক।। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ম্যাজিকাল পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করলেন লিওনেল মেসি ও তাঁর দল আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘জে’-এর প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এই ঐতিহাসিক ম্যাচে কেরিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের অনন্য রেকর্ড স্পর্শ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।

 

তবে ম্যাচের সমস্ত আলোচনা ও রোমাঞ্চকে ছাপিয়ে গিয়েছে প্রথমার্ধে মেসির করা প্রথম গোলটির পরের এক আবেগঘন দৃশ্য। গোল করার পরপরই মাঠের ভিতর চোখের কোণ ভিজতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। চেনা ছন্দে ফেরা প্রিয় তারকার এমন কান্না দেখে গ্যালারির হাজারো ভক্ত এবং ফুটবল বিশ্ব বেশ বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। সাধারণত আনন্দের মুহূর্তে এমন কান্না দেখা গেলেও মেসির এই চোখের জলে পেছনে যে অন্য কোনো গল্প রয়েছে, তা বুঝতে কারোরই বাকি ছিল না।

 

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মেসি নিজেই তাঁর এই কান্নার আসল রহস্য উন্মোচন করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, এই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। বিশ্বকাপের এই উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার আগে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন কিছু দিন পার করেছেন। খেলাধুলার বাইরের এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণেই গোল করার পর নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার এই দলনেতা।

 

ব্যক্তিগত সংকটের সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ না দিলেও এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য আর্জেন্টিনা দলের সমস্ত সতীর্থ এবং স্টাফদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মেসি। তিনি বলেন, “আমি পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন দিনগুলিতে আমি যাতে মানসিকভাবে ভালো থাকি, তা নিশ্চিত করতে সতীর্থরা অনেক চেষ্টা করেছেন।” দীর্ঘ কেরিয়ারের সমস্ত অর্জনের পর বর্তমান সময়টিকে নিজের ফুটবল জীবনের অন্যতম সেরা উপভোগ্য মুহূর্ত হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি।

 

মেসির এমন অবিশ্বাস্য রূপকথা ও আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত জয় দেখে আবেগে আপ্লুত দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও। ম্যাচ শেষে প্রিয় শিষ্যকে নিয়ে প্রশংসার ভাষা হারিয়ে স্কালোনি বলেন, “লিওকে নিয়ে বলার মতো কোনো শব্দ আমার জানা নেই। ও স্রেফ অবিশ্বাস্য।” রেকর্ড গড়ার রাতে মাঠের ভেতর মেসির এই চোখের জল ও জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম এক আবেগময় অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।