ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৬ - ৮:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

১০ বছরের শিশু সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা, দেড় মাসেও গ্রেফতার হয়নি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

  • আপডেট: Tuesday, June 16, 2026 - 6:32 pm

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা।। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হলেও দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে।

অভিযুক্তের নাম মোহন তালুকদার (২৫)। তিনি জেলার মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোহেল রানা মোহন তালুকদারের দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে লোকজনের বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন অবস্থান করছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলাসহ দলবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়। পরদিন স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়।

গত ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে। এদিনই আইনি পদক্ষেপ নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ করেন। পরে আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার গাঢাকা দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বুঝে না। তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মামলা করেছি, কিন্তু আসামি এখনো ধরা পড়েনি। আমরা গরিব বলে বিচার পেতে কষ্ট হচ্ছে। আমি আমার মেয়ের জন্য ন্যায্য বিচার চাই।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামির মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।