ঢাকা | জুন ২, ২০২৬ - ১০:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মাদকের স্বর্গরাজ্য রাজস্থলী: বিভিন্ন এলাকা দিয়ে মদ-গাঁজা পাচারের পাশাপাশি ঢুকছে ইয়াবা

  • আপডেট: Tuesday, June 2, 2026 - 7:09 pm

রাজস্থলী প্রতিনিধি।।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় তৈরি বাংলা মদ ও গাঁজা পাচারের পাশাপাশি ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন ও বিদেশি সিগারেট যেমন ওরিস, পেট্রোন, বেনসন প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দিনে-রাতে বিভিন্ন যানবাহনে এসব মাদকদ্রব্য পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গুনিয়া, চন্দ্রঘোনা ও চট্টগ্রাম শহরে পাচার করা হচ্ছে। এতে উপজেলার উঠতি বয়সী যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজস্থলী উপজেলার পাশ্ববর্তী বান্দরবান সদর, রাজভিলা, তাংইখালী, বালুমুড়া, ইসলামপুর, বাঙ্গালহালিয়ার বটতলা, যৌথ খামার, ইসকন মন্দির সংলগ্ন এলাকা, রাজস্থলীর সীমান্ত সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন গাঁজা সেবন, ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন ও পাচার করা হচ্ছে। অপরদিকে, রাতের বেলায় বাঙ্গালহালিয়ার বটতলা দিয়ে রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া, রাজারহাট হয়ে শিলক, সরভভাটা এলাকায় জিপে করে দেশীয় তৈরি বাংলা মদ পাচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ট্যাবলেটও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঙ্গালহালিয়া বাজারে প্রতি লিটার দেশীয় তৈরি বাংলা মদ ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হলেও পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও রাঙ্গুনিয়া-চট্টগ্রামে আরও বেশি দামে বিক্রি করা হয়। মাদক পাচারে জড়িত সিন্ডিকেটগুলো বিভিন্ন স্যালাইনের প্যাকেটে মদ ভরে বস্তাবন্দি করে পাচার করছে বলে জানা গেছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাঙ্গালহালিয়া বাজারের বটতলা, পাবনা টিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে, শফিপুর, ইসলামপুর, রাজস্থলী উপজেলার শহীদ মিনার, সীমান্ত সড়কের তাইতংপাড়া, পাইনছড়া, হাজীপাড়া ব্রিজ, নোয়াপাড়া বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচারকারীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। তাদের অভিযোগ, বাংলা মদের পাশাপাশি ইয়াবাও গোপনে এলাকায় প্রবেশ করছে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ কেউ ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে এসব মাদক পাচার, ইয়াবা ব্যবসা ও সিগারেট পাচারের সঙ্গে জড়িত। কেউ কেউ দাবি করেন, বাঙ্গালহালিয়ায় আবারও অনেকে মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়েছেন।

বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন এলাকার কয়েকজন মুরুব্বি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে কিছু ব্যক্তি মাদক সিন্ডিকেট থেকে সুবিধা নিয়ে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এমনকি তারা ব্যয়বহুল বিল্ডিং, গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়ে বড়লোক হয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাষ্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, সমাজে ভালো মানুষের মূল্য কমে যাচ্ছে। যারা আগে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই এখন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। এতে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে।

উপজেলার সিনিয়র এক নেতা জানান, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি বাংলা মদ বিভিন্ন যানবাহনে পাচার হচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসাও গোপনে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সড়ক, বাঙ্গালহালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা ও রাইখালীর কারিগরপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে সিগারেট ও মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের বলেন, “বাঙ্গালহালিয়া বাজার এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল অব্যাহত রয়েছে। কোথাও মদ বা গাঁজা পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে ইয়াবার বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে রাইখালি কারিগরপাড়া ও বড়খোলাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি বাংলা মদসহ কয়েকজন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।”

উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা মাদক পাচার ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।