ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৬ - ২:২৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ভিসা সমস‌্যায় গ‌্যালারিতে থাকতে পারেননি মা, আবেগপ্রবণ ভোজিনহা

  • আপডেট: Tuesday, June 16, 2026 - 11:08 am

স্পোর্টস ডেস্ক।। একের পর এক বলরূপী গোলা তাঁর দিকে আসছে, আর তিনি বিশ্বস্ত দুর্গরক্ষকের মতো সেই সব গোলা দু’হাত দিয়ে বাড়িয়ে তাঁর নিজের দুর্গ রক্ষা করে চলেছেন। এখানে কার মুখ জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস বা সংক্ষেপে বললে ভোজিনহা।

স্পেনের বিরুদ্ধে তিনি যে রূপকথা লিখলেন তার কাহিনির সারসংক্ষেপটা তুলে ধরা যাক। মোট সাতটি সেভ, তার মধ‌্যে ছ’বার ছ’গজ বক্সের মধ‌্যে। তিন বার ঝাঁপিয়ে বল বাঁচিয়েছেন। তিন বার আকাশে লাফিয়ে দলকে লড়াইয়ে রেখেছেন। বিশ্বকাপের অভিষেকে ক্লিন শিট (একটিও গোল না খাওয়া) রাখা প্রথম গোলরক্ষক যাঁর বয়স ৪০ বছর। এ ছাড়াও সঠিক পাস বাড়িয়েছেন ৬৯ শতাংশ (৪২টির মধ‌্যে ২৯টি)।

প্রথম পয়েন্ট নিশ্চিত হওয়ার পরে চোখে জলও দেখা গিয়েছে। তবে জীবনের অন‌্যতম স্মরণীয় মুহূর্তেও পরিবারকে পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ মিটছে না কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের। কারণ— আমেরিকারয় ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা।

ম‌্যাচের সেরা হওয়ার পরে আবেগপ্রবণ কণ্ঠে ভোজিনহা বলেছেন, “খেলা শেষে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। ছোটবেলায় আমি আমার দাদু-ঠাকুমার কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু তাঁরা এই বিশেষ মুহূর্তে আমার পাশে থাকতে পারেননি।”

আরও যোগ করেছেন, “ভিসা সংক্রান্ত সমস‌্যায় আমার মাও এখানে আসতে পারেননি। পাশাপাশি অর্থও আর একটি বিষয় ছিল। সময়মতো সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তিনি থাকলে আমার আরও ভাল লাগত।”

কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের এই মন্তব্য চলতি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভিসা ও প্রবেশ-সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

এর আগে ইরানের ফুটবল কর্তাদের ভিসা মঞ্জুর না হওয়া থেকে সঠিক ভিসা সত্ত্বেও আমেরিকার অভিবাসন দপ্তরের নির্দেশে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তানের মায়ামি বিমানবন্দরে নেমেও দেশে ফিরে যাওয়া— মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়ে বেশি চর্চায় থেকেছে বিশ্বকাপ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের স্বপ্নপূরণের দিনে অসাধারণ খেলেও পরিবারের অনুপস্থিতি ভোজ়িনহার আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ঐক্য। আমাদের দলে যে ফুটবলাররাই খেলুক বা ফুটবলারদের বয়স যাই হোক না কেন আমরা সকলকে পরিবারের সদস্যের মতো করে দেখি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

এর পরেই দৃপ্ত কণ্ঠে যোগ করেছেন, “অনেকে ভেবেছিল আমরা শুধু বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে এসেছি। কিন্তু প্রতিযোগিতায় আমাদের থেকে কয়েকগুণ এগিয়ে থাকা অনেক দল রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সেরাটা মেলে ধরাই প্রধান লক্ষ‌্য। আমরা যোগ‌্যতা অর্জন করে এত দূর পর্যন্ত পৌঁছেছি। তাই উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দেব না।”