ঢাকা | জুন ১৬, ২০২৬ - ৩:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ওমরাহ যাত্রীদের দুইকোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই পীরজাদা

  • আপডেট: Tuesday, June 16, 2026 - 1:47 pm

চাঁদপুর সংবাদদাতা।। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা হাম্মাদ চৌধুরী ও বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওমরাহ হজ্জযাত্রীদের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওমরাহ কাফেলার প্রধানরা ইতোমধ্যে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে পৃথক একাধিক মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত দুই পীরজাদা সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরলমনা মানুষের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও আত্মগোপনে রয়েছেন।

মামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার আইনগিরি গ্রামের মাওলানা মো. গোলাম মাওলা নামের এক ওমরাহ কাফেলা পরিচালক পীরজাদা হিসেবে আস্থা রেখে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে হাম্মাদ ও মিশকাতের সাথে লেনদেন শুরু করেন। তিনি ৬৫ জন ওমরাহ যাত্রীর জন্য নগদ ও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা তাদের প্রদান করেন। টাকা নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে ওমরাহ যাত্রীদের পাঠাতে গড়িমসি শুরু করলে গোলাম মাওলার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, ‘এসবি ওভারসিজ’ নামে তাদের কোনো এজেন্সির বৈধ নিবন্ধনই নেই।

ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা অভিযোগ করে বলেন, তারা ওমরাহ যাত্রী পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে আমাকে ভুয়া ভিসা ও এয়ার টিকিট দেয়। এ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে তারা আমাকে ইসলামী ব্যাংকের ২০ ও ২৫ লাখ টাকার দুটি চেক দেয়। কিন্তু অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেক দুটি ডিজনার হয়। বাধ্য হয়ে আমি হাম্মাদ চৌধুরীকে আসামি করে ঢাকার সিএমএম আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছি। তারা আমার ও সাধারণ যাত্রীদের টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছে, যার ফলে আমি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। তিনি এই প্রতারক চক্রের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার ওমরাহ কাফেলা পরিচালক নছরুল্লাহ হুসাইন। তিনি জানান, তার ১৭৬ জন ওমরাহ যাত্রীর ভিসা ও টিকিটের জন্য মিশকাত চৌধুরী এবং তার ভাইদের ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে কাজ করতে না পেরে তারা ৭৫ লাখ টাকার চেক দেয়, যা ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়। এ ঘটনায় তিনি কুমিল্লা আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুতই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে বলে আশা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত হাম্মাদ চৌধুরী ও মিশকাত চৌধুরীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে তাদের বাবা মুহাম্মদ জাকারিয়া চৌধুরী লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ছেলেরা প্রাপ্তবয়স্ক, তারা নিজেদের ব্যবসা নিজেরা করে। মামলার অভিযোগে আমার নাম জড়ানো এবং টাকা নেওয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এসব ঝামেলার কারণে আমি এখন ছেলেদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখি না।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার জানান, এই প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানা এবং আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাগুলোর তদন্ত কাজ ও আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।