ঢাকা | এপ্রিল ১৮, ২০২৬ - ৩:৩২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ফুয়েল পাস: ঢাকায় যুক্ত আরও ১৮ পাম্প, রাজধানীর বাইরেও কয়েক জেলা

  • আপডেট: Saturday, April 18, 2026 - 12:30 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে চালু হওয়া মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ এর কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

আজ শনিবার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, এদিন থেকে ঢাকা জেলায় ১৮টি পেট্রোল পাম্পে পাইলটিং কার্যক্রমের বিস্তার করা হচ্ছে।

আর ঢাকা জেলার বাইরে আরও কয়েকটি জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় মোটরসাইকেলচালকেরা এই কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন

এই এলাকাগুলো হল-ঢাকা মেট্রো, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মেট্রো, বরিশাল, বরিশাল মেট্রো, খুলনা, খুলনা মেট্রো, রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রো এবং ময়মনসিংহে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ‘ফুয়েল পাস’ বিডি সিস্টেমে নিবন্ধনের আওতায় আসবে।

তবে ওই পোস্টে ঢাকা জেলার মধ্যে ১৮টি পেট্রোল পাম্পের নাম ও অবস্থান বা কোন কোন এলাকায় সেগুলো রয়েছে, সে তথ্য তুলে ধরা হয়নি।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সারা দেশের অন্যান্য জেলাতেও উন্মুক্ত করা হবে’।

‘ফুয়েল পাস’ বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও ইতিবাচক অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

পাশাপাশি ফুয়েল পাসের অফিসিয়াল ফেইসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, গ্রুপের লিংক মন্তব্যের ঘরে দেওয়া আছে।

ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের সংকট শুরু হয় রোজার ঈদের আগে। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পেয়ে ও দীর্ঘ সময় লাইন ধরে থাকা নিয়ে কোন কোন পাম্পে ঘটেছে মারামারি, বিশৃঙ্খলা। নড়াইলে গত ২৮ মার্চ তেল না পেয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

কোথাও কোথাও পাম্পে অকটেন-পেট্রোল না থাকার নোটিশ এবং কৃত্রিম সংকটের অভিযোগও সামনে এসেছে।

নতুন সেবা জ্বালানি বিভাগ বলছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিক্রির কারণে কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইন, যানজট, একই ব্যক্তি বা যানবাহনের একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ‘ফুয়েল পাস’ চালু হলে পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া ‘ডিজিটাল রেকর্ডে’ আসবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তাৎক্ষণিক নজরদারি করা যাবে।

এই পরিস্থিতিতে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার পাইলট কার্যক্রম শুরু হয় গেল ৯ এপ্রিল। সেদিন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস চালু করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এ সেবা উন্মুক্ত রাখা হয়।

‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি নেওয়ার এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্যোগে চালু করা হয়। স্মার্টফোন না থাকলেও ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

পাইলট শুরুর পরদিন ১০ এপ্রিল ঢাকার ওই দুই পাম্পে অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি তেল দেওয়া হচ্ছিল। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে অ্যাপধারীদের জন্য পৃথক লাইনও করা হয়। আর সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন শনিবার থেকে অ্যাপ ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং দেশে পাম্পভিত্তিক চাপের মধ্যে তেল বিক্রি ও বিতরণে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা আনার নানা পদক্ষেপের সময়েই এই উদ্যোগ বিস্তৃত করা হচ্ছে।

এর আগে মার্চের শুরুতে বিপিসি খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমাও বেঁধে দিয়েছিল।