ঢাকা | এপ্রিল ২৮, ২০২৬ - ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ফটিকছড়িতে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ: টোকেন বাণিজ্যে অতিষ্ঠ চালকরা

  • আপডেট: Monday, April 27, 2026 - 10:15 pm

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সড়কে নিয়মিত চাঁদাবাজি ও টোকেন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।

চালকদের অভিযোগ, কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি পেলেই মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলে সেই কাগজপত্রই আবার ‘বৈধ’ হয়ে যায়। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা, ড্রাম ট্রাক, ট্রলি ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে টোকেন দিয়ে মাসোহারা আদায়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক জানান, প্রতি তিন মাস পরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়। কোনো মাসে টাকা দিতে দেরি হলে গাড়ি আটকিয়ে মামলা দেওয়া হয়।

এদিকে, সম্প্রতি হাইওয়ে থানার ওসি সাহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীকে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। জানা গেছে, অসুস্থতার অজুহাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করলেও, একই সময়ে তিনি ‘আবছার’ নামে এক প্রবাসীর গাড়ি আটকিয়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা ওই প্রবাসীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশ সড়কে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকায় ঝংকার মোড় ও বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তীব্র যানজট সৃষ্টি হলেও তাদের কার্যকর উপস্থিতি দেখা যায় না। ফলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি সাহাব উদ্দীন বলেন, নিয়মিত আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”