ঢাকা | জুলাই ৭, ২০২৬ - ৬:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

প্রেমিকসহ ধরা স্ত্রী, ছাদ থেকে ফেলে ব্যর্থ হয়ে টয়লেট ক্লিনার ইনজেকশন দিয়ে স্বামীকে হত্যা

  • আপডেট: Tuesday, July 7, 2026 - 4:34 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। ভারতের তেলেঙ্গানায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বহুতল ভবন থেকে ফেলে দিয়ে প্রথম দফায় হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যানুলার মাধ্যমে টয়লেট ক্লিনার ইনজেকশন দিয়ে ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম প্রশান্ত (৩৫)। খবর এনডিটিভির।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সন্ধ্যা (যিনি পেশায় একজন নার্স), তার প্রেমিক অনিল এবং ভেঙ্কট সাই ওরফে বান্টি নামের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার ন্যায়ালকাল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ বা ২৮ জুনের দিকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরেন প্রশান্ত। দেশে ফেরার পর তিনি তার স্ত্রী সন্ধ্যার সঙ্গে অনিল নামের এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্কের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান। এই বাধা সরাতে সন্ধ্যা, অনিল ও বান্টি মিলে প্রশান্তকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৯ জুন বান্টিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রশান্তকে অতিরিক্ত মদ পান করানোর। মদ্যপানের পর প্রশান্ত ও বান্টি বহুতল ভবনের ছাদে যান। সেখানে তাদের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ঝগড়া বাঁধানো হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ও বান্টি মিলে প্রশান্তকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেন। উপর থেকে নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান প্রশান্ত। তাকে প্রথমে একটি সরকারি এবং পরে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর ৩০ জুন সন্ধ্যা তার নার্সিংয়ের পেশাগত জ্ঞান ব্যবহার করে দ্বিতীয়বার হামলার ছক কাটেন। হাসপাতালে যখন প্রশান্ত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, তখন নার্স স্ত্রী সন্ধ্যা চতুরতার সঙ্গে প্রশান্তর হাতে থাকা ক্যানুলার মাধ্যমে টয়লেট ক্লিনার এবং অন্য একটি রাসায়নিক পদার্থ ইনজেকশন হিসেবে পুশ করেন। বিষাক্ত এই ইনজেকশন শরীরে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রশান্তর মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রশান্তর মায়ের মনে সন্দেহ জাগে। গত ১ জুলাই তিনি থানায় গিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ বান্টিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বান্টি জানান, আমাদের মধ্যে প্রথমে মারামারি হয়েছিল। এরপর ওর স্ত্রী সেখানে আসে। আমরা দুজনে মিলে তাকে জোরপূর্বক ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই। তিনি আরও দাবি করেন, এই পুরো পরিকল্পনাটি সন্ধ্যার ছিল। এর জন্য সন্ধ্যা তাকে টাকাও দিয়েছিলেন।

গত ৪ জুলাই পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারী স্ত্রী সন্ধ্যা, তার প্রেমিক অনিল ও সহযোগী বান্টিকে গ্রেপ্তার করে। তিন আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের পর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।