ঢাকা | মে ৮, ২০২৬ - ৪:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাসে তিনজন নিহত, প্রাণী থেকে ছড়াচ্ছে ভাইরাস

  • আপডেট: Friday, May 8, 2026 - 12:43 pm

স্বাস্থ্য ডেস্ক।। বিশ্বে নতুন প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এটি কোভিড নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জাও নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ছড়ায়।

শুক্রবার (৮ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর মহামারি ও মহামারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ডা. মারিয়া ভ্যান কেরখোভ জানান, বর্তমানে আমাদের কাছে কোনো উপসর্গযুক্ত যাত্রী বা ক্রু নেই। অতীতে অ্যান্ডিস ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবগুলোতে মূলত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকাদের মধ্যেই মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটেছিল।

সংস্থাটির জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স কোঅর্ডিনেশন বিভাগের পরিচালক ডা. আবদিরাহমান মাহমুদ বলেন, ২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় একই ধরনের পরিস্থিতি হয়েছিল। এ সময়ে একজন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিল। এখন আমরা একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছি। একটি আবদ্ধ জায়গায় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা একটি ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি আমরা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং আইসোলেশন ঠিকভাবে অনুসরণ করি, তাহলে এই সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব। এটি বড় কোনো মহামারি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এটি নির্দিষ্ট একটি সীমিত পরিবেশে ঘটছে, যেখানে মানুষ দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠভাবে মিশছে।

হান্টাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা হান্টাভাইরাস কি মহামারি হতে পারে?

ডা. মাহমুদ বলেন, এটি আর্জেন্টিনার প্রাদুর্ভাবের মতোই এবং আমরা বড় কোনো মহামারির আশঙ্কা করছি না। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিকভাবে কার্যকর করলে সংক্রমণ শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া সম্ভব এবং এটি সীমিত প্রাদুর্ভাবেই থাকবে।

ডা. ভ্যান কেরখোভও জোর দিয়ে বলেন, এটি করোনাভাইরাস নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভাইরাস, যা বহু বছর ধরে বিদ্যমান। এটি কোভিড মহামারির শুরু নয়; এটি একটি সীমিত জায়গায়, একটি জাহাজে ঘটছে এমন একটি প্রাদুর্ভাব। ছয় বছর আগে আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, এটি তা নয়। এটি একইভাবে ছড়ায় না।

হান্টাভাইরাস ও কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রধান পার্থক্য

হান্টাভাইরাস সাধারণত প্রাণী (বিশেষ করে ইঁদুর) থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। অন্যদিকে কোভিড-১৯ হলো অত্যন্ত সংক্রামক একটি শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষে সহজেই ছড়ায়। যদিও দুই ভাইরাসই শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে, তবে হান্টাভাইরাস ব্যক্তিভিত্তিকভাবে বেশি প্রাণঘাতী হলেও এটি মানুষের মধ্যে খুব সহজে ছড়ায় না। তাই এটি মহামারিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

কোভিড-১৯ খুব দ্রুত মহামারি আকার নিতে পারে, কারণ এটি বাতাসে দীর্ঘসময় ভেসে থাকতে পারে এবং এক ঘরেই অনেক মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। কিন্তু হান্টাভাইরাসে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ শুধু দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সম্ভব হয়। তাই এর প্রাদুর্ভাব সাধারণত স্থানীয় ও সীমিত থাকে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস মূলত সংক্রমিত ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা থেকে ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ খুবই বিরল। তবে সাম্প্রতিক একটি ক্রুজ জাহাজের প্রাদুর্ভাবে অ্যান্ডিস স্ট্রেইন পাওয়া গেছে, যা মানুষে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে এর জন্য অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ প্রয়োজন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ডা. টেড্রস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, অ্যান্ডিস ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড (লক্ষণ প্রকাশের সময়) ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, তাই আরও কিছু কেস সামনে আসতে পারে। তবে এটি একটি গুরুতর ঘটনা হলেও ডব্লিউএইচও এর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিকে কম হিসেবে মূল্যায়ন করছে।