ঢাকা | মে ২৪, ২০২৬ - ৭:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে কাপ্তাইয়ের কামারের দোকানে

  • আপডেট: Sunday, May 24, 2026 - 5:53 pm

 

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কামারপল্লীগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত লোহাকে বিভিন্ন আকৃতিতে রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারশিল্পীরা। সারা বছর তুলনামূলক কম কাজ থাকলেও কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেই প্রাণ ফিরে পায় এসব কামারের দোকান।

রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১টায় সরেজমিনে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের রাইখালী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারের দোকানগুলো। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তৈরি করা হচ্ছে দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও রামদাসহ কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। একই সঙ্গে পুরোনো সরঞ্জাম সান দেওয়ার কাজও চলছে পুরোদমে।

রাইখালী বাজারের কামারশিল্পী স্বপন কর্মকার ও কৃষ্ণ কর্মকার জানান, তাঁরা দুই ভাই পাশাপাশি দুটি দোকানে কাজ করেন। সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই কিছুটা বেশি আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। পূর্বপুরুষের এই পেশাকে এখনও ধরে রেখেছেন তাঁরা।

তাঁরা বলেন, “কোরবানির সময় অনেকে পুরোনো দা, বটি ও ছুরি সান দিতে আসেন, আবার কেউ নতুন সরঞ্জাম কেনেন। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।”

তাঁরা আরও জানান, প্রতিটি দা সান দিতে ১০০ টাকা, বড় বটি সান দিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ছুরি সান দিতে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া নতুন দা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, বটি ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং ছুরি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এসময় দোকানে আসা রাইখালীর লেমুছড়ি এলাকার মো. সেলিম, পূর্ব কোদালার আবুল কাসেম, নারানগিরির নাজিম উদ্দীন ও খন্তাকাটা এলাকার আবুল হাসেম বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশু জবাই ও পরবর্তী কাজের জন্য তাঁরা দা, বটি ও ছুরি সান দিতে এসেছেন।

প্রসঙ্গত, সমগ্র কাপ্তাই উপজেলায় বর্তমানে নতুনবাজারে একটি এবং রাইখালী বাজারে দুটি কামারের দোকানে এই ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্পের কাজ হয়ে থাকে।