ঢাকা | জুলাই ৮, ২০২৬ - ৬:৫৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে পাঁচ মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত, আহত ২০ 

  • আপডেট: Wednesday, July 8, 2026 - 6:05 pm

কক্সবাজার সংবাদদাতা।। কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে একটি মাদরাসার পাঁচ নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ ব্লকে এ দুর্ঘটনা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ফায়ারসার্ভিস ও স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা।

তিনি জানান, পাহাড়ি ঢালুর নিচে হওয়ায় মাদরাসাটির ওপর ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ের ঢাল ভেঙ্গে পড়ে। এখন পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি আরও একাধিক শিক্ষার্থী মাটিচাপা পড়া অবস্থায় থাকতে পারে।

এদিকে, হতাহতদের উদ্ধারে ফায়ারসার্ভিসের ২টি ইউনিট কাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের একটি মক্তবের ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় মক্তবটিতে ৩০ জনের বেশি শিশু শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছিল।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহত ও আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ চলছে। এ কারণে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

এদিকে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এ ছাড়া পাহাড়ধস ও দেয়ালধসের পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫১ মিলিমিটার।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে পাহাড় ধসে কক্সবাজার শহরের একজন, সোমবার পাহাড় ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন, কক্সবাজার শহর ও পেকুয়া একজন করে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টিতে পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গাসহ ২ শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত তিনদিনের কক্সবাজার জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।