ঢাকা | মে ১৩, ২০২৬ - ২:৪৮ অপরাহ্ন

এআইচালিত হিউম্যানয়েড রোবট চাঁদে পাঠাবে চীন

  • আপডেট: Wednesday, May 13, 2026 - 1:06 pm

 

টেক ডেস্ক।। চাঁদে মানব অভিযান বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আরও জোরদার করছে চীন। সেই লক্ষ্যেই উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করেছেন হংকংয়ের বিজ্ঞানীরা। রোবটটি ভবিষ্যতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন ও স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য সামনে রেখে চীন এ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৯ সালের ‘চাং-ই-৮’ মিশনে রোবটটি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। রোবটটির নকশা করেছে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি।

প্রায় ১০০ কেজি ওজনের এই রোবট মূলত মালামাল পরিবহনের কাজ করবে। নভোচারীরা চাঁদে পৌঁছানোর আগেই এটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে স্থাপন করবে। এর উপরের অংশ মানুষের মতো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দুটি হাত রয়েছে। নিচের অংশে সংযুক্ত করা হয়েছে চার চাকার চলমান মডিউল। সৌরশক্তিচালিত রোবটটি কঠিন পরিবেশেও কাজ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গাও ইয়ং জানিয়েছেন, ‘চাং-ই-৭’ অভিযানে প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে হিউম্যানয়েড রোবট পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাদের তৈরি রোবটটি দক্ষিণ মেরুর ভিন্ন একটি এলাকায় কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, রোবটটিতে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আশপাশের বস্তু শনাক্ত করতে এবং সেগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। ফলে এটি নিজে থেকেই কাজের পরিকল্পনা তৈরি করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

গত কয়েক দশক ধরে মহাকাশ গবেষণায় বড় বিনিয়োগ করছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে ‘আর্টেমিস-৪’ মিশনের মাধ্যমে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও নানা প্রযুক্তিগত জটিলতায় তাদের সময়সূচি কয়েক দফা পিছিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেস-এক্সের ‘স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম’ দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্র অভিযান আরও বিলম্বিত হতে পারে। মহাকাশে জ্বালানি ভরার জটিল প্রযুক্তিও এ প্রকল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সাবেক নাসা প্রশাসক জিম ব্রাইডেন্সটাইন সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের পেছনে পড়ে যেতে পারে।