ঢাকা | জুন ১১, ২০২৬ - ৬:৪৩ অপরাহ্ন

ইউসিবির ৪৩তম এজিএম সম্পন্ন, মূলধন দ্বিগুণের সিদ্ধান্ত

  • আপডেট: Thursday, June 11, 2026 - 4:01 pm

ডেস্ক রিপোর্ট।। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মত অনুমোদনে ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও পুঁজিভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত এজিএমে সভাপতিত্ব করেন ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও ভাইস-চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন, পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. তানভীর খান, স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ইমাম হাসান এফসিএ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও ফারুক আহাম্মদ, এফসিএ ।

সভায় জানানো হয়, নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ইউসিবি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সময়ে ব্যাংকটি তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৩ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের গড় প্রবৃদ্ধির (১১ শতাংশ) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮,৩৯৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয় এবং একই সময়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার নতুন গ্রাহক হিসাব যুক্ত হয়।

দক্ষ ব্যালান্স শিট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকটি তার ঋণ-আমানত অনুপাত ৯১.৩ শতাংশ থেকে ৮৩ শতাংশে নামিয়ে এনে তারল্য অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। ঋণ ও অগ্রিম খাতে ৮ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি বা রাইট-অফ ঋণ থেকে প্রায় ১১৪ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। নতুন নিয়ন্ত্রক নীতিমালার কারণে এক পর্যায়ে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১৯ শতাংশে পৌঁছালেও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের বিশেষ তৎপরতায় তা প্রায় ৪ শতাংশ কমিয়ে ১৫.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমেও অসাধারণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যেখানে আমানত ১৬৩ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ইউসিবির এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রথমবারের মতো মুনাফার মুখ দেখেছে এবং সুশৃঙ্খল ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় প্রায় ৯৭ কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ জনবল বৃদ্ধি করেই এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

প্রযুক্তিগত খাতে দেশের প্রথম মাইক্রোসার্ভিসভিত্তিক ‘ওপেন এপিআই ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম’ এবং ইউসিবি ওয়ান অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ইউসিবি তার ডিজিটাল সক্ষমতা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যার ফলে বর্তমানে ব্যাংকের মোট লেনদেনের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

সভায় শেয়ারহোল্ডাররা ইউসিবির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভা শেষে কোম্পানি সেক্রেটারি তানভীর এ সিদ্দিকী এফসিএ শেয়ারহোল্ডার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতা ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান। পরে চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে তিনি সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সুশাসন জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী মূলধন কাঠামোর মাধ্যমে একটি টেকসই ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা শেষ হয়।