ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৬ - ১:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

আলীকদমে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণের সমাপনী

  • আপডেট: Monday, April 20, 2026 - 10:09 am

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের নির্দেশনায় আলীকদম জোনের উদ্যোগে আয়োজিত “প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ–২০২৬”-এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) আলীকদমে আয়োজিত এক সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৪ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই প্রশিক্ষণে উপজেলার ২২টি পাড়া থেকে ২৬ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৯ জন নারী ও ১৭ জন পুরুষ।

প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, স্থানীয়দের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল—আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, ভাঙা অঙ্গের পরিচর্যা, অচেতন রোগীর ব্যবস্থাপনা, অগ্নিদগ্ধ রোগীর সেবা, সাপের কামড়ে করণীয় এবং পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

প্রশিক্ষণে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি সেনা জোনের মেডিকেল অফিসাররা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি বলেন, “মানবিক সহায়তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার। এ ধরনের প্রশিক্ষণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি জীবন রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম করে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর ইসলাম, স্থানীয় চিকিৎসকবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

সমাপনী পর্বে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী ও একটি করে ফার্স্ট এইড ব্যাগ বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বিভিন্ন পাড়ায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, দুর্গম এলাকায় যেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন, সেখানে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।