ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ - ২:১৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজধানী

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্র: ৩টি গাড়ি পুড়িয়ে দিল হকাররা, পুলিশ-সাংবাদিক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক।। রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও পুলিশের সঙ্গে হকারদের দফায় দফায় তীব্র সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষ চলাকালে ক্ষুব্ধ হকাররা সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়ি ও দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া আরও বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ইটের আঘাতে পুলিশ সদস্য ও সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার হোপ মার্কেটের সামনে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত এলাকাটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। হোপ মার্কেটের সামনে উচ্ছেদ করার সময় বিদ্যুতের তার থেকে হঠাৎ একটি দোকানে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেন হকাররা। দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় হকাররা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সংগঠিত হয়ে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন।

একপর্যায়ে হকাররা সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনের তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ারশেল) শেল নিক্ষেপ করে। তবে হকারদের সংখ্যা বেশি থাকায় একপর্যায়ে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

হকাররা মিরপুর আইডিয়াল কলেজের সামনে এবং পুলিশ ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে।

ব্যবসায়ীদের ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও হামলা চালায় হকাররা। এতে বেসরকারি টেলিভিশনের গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং মাহবুব হোসেন নবীন নামের এক সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় দোকানের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, হকারদের হামলায় বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সংঘর্ষের জেরে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট ও থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের এই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাফিক সংশ্লিষ্টরা।

 

সম্পর্কিত