ঢাকা | জুলাই ১৬, ২০২৬ - ৭:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

বন্যার্ত মানুষের পাশে রাঙামাটি জেলা পরিষদ, রাজস্থলীতে ৩৫০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

  • আপডেট: Thursday, July 16, 2026 - 5:20 pm

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাঙামাটি জেলা পরিষদ। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজস্থলী উপজেলায় ৩৫০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চালসহ খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য প্রতুল দেওয়ান, জেলা বিএনপির সদস্য মিশাচিং মারমা, রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান শেখ, গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোলেমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছগীর আহমেদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, কৃষক দলের সভাপতি বিশু সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভূবন তঞ্চঙ্গ্যা, রাঙামাটি জেলা ছাত্রবিষয়ক সহ-সম্পাদক লাকি মারমা, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াইংম্রাসিং মারমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও জীবিকার উৎস হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। জেলা পরিষদ সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, “আজ ৩৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে যে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে, তা তাদের কষ্টের তুলনায় সামান্য হলেও পাশে থাকার আন্তরিক প্রয়াস। দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দ্রুত এ দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”

পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, খাদ্য মজুত ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমন দুঃসময়ে জেলা পরিষদের এই সহায়তা তাদের পরিবারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

অনুষ্ঠান শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলা পরিষদের এই মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।