নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নিয়ে অচলাবস্থা, সদর দপ্তর বিতর্কে সর্বাত্মক হরতাল
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১ জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয়-সংক্রান্ত কমিটির (নিকার) অনুমোদন এবং ৮ জুলাই প্রকাশিত সরকারি গেজেটের মাধ্যমে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভুজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। নতুন উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ করা হয়েছে পশ্চিম ভুজপুর মৌজায়। একই সঙ্গে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন উপজেলার জন্য ২৩৮টি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে উপজেলা ঘোষণার পরপরই সদর দপ্তরের অবস্থান ও উপজেলা সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উত্তরের তিন ইউনিয়ন দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাটের বাসিন্দাদের দাবি, ভুজপুরে সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে তাদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা কার্যালয়ে যেতে হবে, যা জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। অন্যদিকে, সুয়াবিল ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দাও দূরত্বের কারণে নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে মূল ফটিকছড়ি উপজেলাতেই থাকতে চান।
অন্যদিকে, ভুজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দাবি, নিকারের নীতিমালা ও প্রশাসনিক মানদণ্ড অনুযায়ী ভুজপুরই উপজেলা সদর দপ্তরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ভিত্তিও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে সদর দপ্তরকে আরও কেন্দ্রীয় ও যৌক্তিক স্থানে স্থানান্তরের দাবিতে ‘ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ’-এর ডাকে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উত্তরের তিন ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালিত হচ্ছে। হেয়াকো-গহিরা সড়ক এবং ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি সেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি অফিসে কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, ছাত্র বিক্ষোভসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। বাধ্য হয়েই তারা হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, জনদুর্ভোগ কমিয়ে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন উপজেলা গঠন করা হলেও সদর দপ্তর ও সীমানা নিয়ে চলমান বিরোধে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা দ্রুত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।











