খাগড়াছড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় জরিমানা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি শহরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারে অভিনব জালিয়াতির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক খুচরা বিক্রেতা ও এক সরবরাহকারী ডিলারকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গ্যাসের পরিবর্তে সিলিন্ডারে পানি ভরে ওজনে কারচুপি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
জানা যায়, শহরের চেঙ্গী স্কয়ার সংলগ্ন ‘সিকদার এন্টারপ্রাইজ’ থেকে বেক্সিমকো ব্র্যান্ডের একটি এলপিজি সিলিন্ডার কেনেন এক গ্রাহক। সাধারণত একটি সিলিন্ডার প্রায় এক মাস ব্যবহার করা গেলেও এবার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়।
এতে সন্দেহ হলে গ্রাহক সিলিন্ডারটি পরীক্ষা করে ভেতরে তরল পদার্থের উপস্থিতি টের পান। পরে নিশ্চিত হন, সিলিন্ডারে গ্যাসের পরিবর্তে পানি রয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. খায়রুল হোসেন দাবি করেন, তিনি শহরের ‘জননী ট্রেডার্স’ থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করেছেন এবং এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে, গ্যাস সরবরাহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শংকর দেবনাথ অভিযোগের বিষয়ে বেক্সিমকো ব্র্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তবে সিলিন্ডারে পানি থাকার ঘটনার জন্য তিনি উৎপাদন পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দায়ে সিকদার এন্টারপ্রাইজকে ৫ হাজার টাকা এবং অন্য ডিলার পয়েন্টের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে জননী ডিলার পয়েন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা ও জনস্বার্থে বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে। কোনো ধরনের প্রতারণা বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, শুধু খুচরা বিক্রেতা বা ডিলার নয়, সিলিন্ডারে পানি ঢোকানোর অভিযোগের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।











