ঢাকা | জুন ১৩, ২০২৬ - ৭:৩২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

  • আপডেট: Saturday, June 13, 2026 - 4:35 pm

রাজস্থলী প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩ নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যৌথ খামার এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বাঙ্গালহালিয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাকড়াছড়ি মৌজার ৩২০ নম্বর এলাকায় ১ নম্বর খতিয়ানের আওতাভুক্ত প্রায় ৪ একর জমি ও গাছপালা সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের কাছ থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ক্রয়ের পর থেকে তিনি জমিটি ঘেরাও করে রক্ষণাবেক্ষণ ও গাছপালা রোপণ করে আসছিলেন বলে দাবি করেন।

তবে সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিস পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন করেছে।

তদন্ত চলাকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কারবারি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দাবি করেন, সাবেক কাকড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান পূর্বে জমির সীমানা ও মালিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রদান করেছিলেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে চন্দ্রঘোনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনে জমিটি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার অভিযোগ, বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমির দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে জমিতে রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ উপড়ে ফেলে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে। একই সঙ্গে জমিতে গেলে তাকে ভয়ভীতি ও মারধরেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মংউচি মারমা জানান, ক্রয়সূত্রে জমিটির মালিক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গাছপালা রোপণ ও পরিচর্যা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সমাধানেরও চেষ্টা করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিবাদীপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা জানান, তাদের কাছে মালিকানার কোনো কাগজপত্র নেই। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পুনর্বাসনকৃত জায়গায় বসবাস করে আসছেন বলে দাবি করেন। সমঝোতার সুযোগ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে চান বলেও জানান তারা।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যাতে তিনি তার ক্রয়কৃত জমিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবস্থান ও রোপণ করা গাছপালার পরিচর্যা করতে পারেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।