ম্যারাডোনার ‘রেকর্ড’ ভাঙার পথে মেসি
স্পোর্টস ডেস্ক।। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ তিন বিশ্বকাপ আসরে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন লিওনেল মেসি। দু’বার সেই কীর্তি নিয়ে এর পরের অবস্থানে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। যদিও আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের মতে– ম্যারাডোনাও সমান সংখ্যক বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের। সে হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি সর্বোচ্চ চতুর্থ আসরে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড দখলে নেবেন!
এ ছাড়া আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ষষ্ঠ আসর খেলার রেকর্ড গড়বেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ (২৬) খেলার রেকর্ডটিও আগেই দখলে নিয়েছেন। এবার সেই সংখ্যাটি আরও বাড়িয়ে নেওয়ার পালা। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে টানা ১৮ ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এলএমটেন। এবার তার নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টাইন স্কোয়াডে রয়েছে অধিনায়কের সমাহার!
এখন পর্যন্ত আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেননি বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে তার দলে সিনিয়র কারা থাকছেন তা প্রায় নিশ্চিত। এমনকি টিওয়াইসি আগের এক প্রতিবেদনে ২২ জন খেলোয়াড়ের জায়গা পাকা বলে জানিয়েছিল। ক্লাব ফুটবলে অধিনায়কত্ব করা একাধিক খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে আছেন। যারা নিঃসংকোচে নিজেদের এমন এক নেতার কাছে সমর্পণ করেন, যাকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না।
যদিও মেসির নেতৃত্ব সবসময় এমন ছিল না। সাবেক বিশ্বকাপজয়ী সার্জিও বাতিস্তা যুব দলে মেসির কোচ ছিলেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘যখন সে পরিণত হলো, বুঝল যে সময় এসেছে, তখনই সে বিস্ফোরিত হলো। সঠিক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছে সে। যখন অনুভব করল তারই এখন দলকে এগিয়ে নেওয়ার সময়, তখন সে সেটাই করেছে। সে ছিল খুব বুদ্ধিমান। যখন নিজেকে নেতা হিসেবে অনুভব করেনি, তখন নেতা হওয়ার চেষ্টাও করেনি। হয়তো ভাবত “যদি কোনো ভুল হয়ে যায়?” সে শুধু ফুটবল খেলতেই চেয়েছিল। নিজের নেতৃত্বের সময় অনুভবের পরই তা গ্রহণ করল।’
মেসি অধিনায়কত্ব পান ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে, ততদিন আর্মব্যান্ড ছিল হাভিয়ের মাশ্চেরানোর কাছে। তিনি ধীরে ধীরে নেতৃত্বের ভূমিকায় নিজেকে গড়ে তোলেন বলে দাবি সেবাস্তিয়ান বেক্কাসিসির, ‘লিও ২০ বছর ধরে শীর্ষে থেকেও বিনয় দিয়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়। হারলে সে রাগ করে, আর সেটাই অসাধারণ। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে নেতৃত্বকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। এখানে নেতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, সে-ই নেতা। আর এমন নিরঙ্কুশ নেতা অনেক নির্দেশনা দিতে পারে।’
আর্জেন্টিনার বর্তমান স্কোয়াডে থাকা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্ডি ডাকা হয় ‘দ্য জেনারেল’ নামে। তিনি পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাকে রক্ষণভাগ থেকে নেতৃত্ব দেন। তাকে নিয়ে কোচ হোসে মরিনিয়ো বলেন, ‘অনেক ক্লাবে আর্মব্যান্ড শুধু ডান হাতে থাকে। কিন্তু এখানে সেটি এমন একজনের হাতে, যে সত্যিকারের অধিনায়ক এবং সেই দায়িত্ব বহন করে।’
এ ছাড়া মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেস বোকা জুনিয়র্স এবং রাইটব্যাক গঞ্জালো মন্টিয়েল রিভার প্লেটের অধিনায়কত্ব করছেন। এর বাইরে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো টটেনহ্যাম হটস্পারের অধিনায়কত্ব দেন কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্ক। আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডারকে নিয়ে ফ্র্যাঙ্কের অভিমত, ‘কুতি সেই ধরনের নেতা, যাকে সবসময় কথা বলতে হয় না। তার উপস্থিতি ও তীব্রতাই নেতৃত্বের প্রতীক।’
লাউতারো মার্টিনেজকে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানে ‘এল কাপিতানো’ বলে জানে। ক্লাব কিংবদন্তি হাভিয়ের জানেত্তি তার সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে, ‘সে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। ম্যাচে তার পূর্ণ নিবেদনই অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। ক্লাবের প্রতি তার গভীর সংযুক্তি রয়েছে, আর সতীর্থরা প্রতিদিন তা দেখে।’
এর বাইরে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অ্যাস্টন ভিলার সহ-অধিনায়ক এবং সম্প্রতি ইউরোপা লিগজয়ী ক্লাবটিতে তার বেশ জোরালো প্রভাব রয়েছে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরিতে থাকলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নেতৃত্বের শক্ত অবস্থানে আছেন। এ ছাড়া নিকোলাস তালিয়াফিকো মাঝেমধ্যে অলিম্পিক লিওঁ, লিয়েনার্দো বালের্দি অলিম্পিক মার্শেইকে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং চেলসিকে কখনও কখনও নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় এনজো ফার্নান্দেজকে। আনুষ্ঠানিকভাবে রদ্রিগো ডি পল দলকে নেতৃত্ব না দিলেও মাঠে ও বাইরে তাকে দলের অন্যতম চালিকাশক্তি বলে মনে করেন আনহেল ডি মারিয়া।
বিশ্বকাপের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে পরাশক্তি দলের অধিনায়কত্ব বেশ মর্যাদাপূর্ণ। আর্জেন্টিনারও অধিনায়কদের ইতিহাস বরাবরই আবেগ আর সাহসিকতায় ভরা। পেদ্রো ডেলাচা থেকে অ্যান্তনিও রাতিন, দানিয়েল পাসারেলা কিংবা ম্যারাডোনার যোগ্য উত্তরসূরী এখন মেসি। আর দলের সতীর্থরাও নেতৃত্বসম্পন্ন হলে তার কাজ কিছুটা সহজ হয় বৈকি! তবে মেসির বিদায়ের পর নেতৃত্বে তার উত্তরসূরি কে হবেন, সেই বিতর্ক দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে!











